ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের পর এবার বুলগেরিয়ার সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী রুমেন রদেভ ইইউ-এর ইউক্রেন নীতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ডি ভেল্ট’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সম্প্রতি বুলগেরিয়ায় অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে রুমেন রদেভের নেতৃত্বাধীন ‘প্রোগ্রেসিভ বুলগেরিয়া’ পার্টি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে। নির্বাচনে প্রায় ৪৪.৫৯ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৪০টি আসনের মধ্যে ১৩০টিরও বেশি আসনে জয়ী হতে যাচ্ছে তারা। ফলে এককভাবেই সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন রদেভ। রুমেন রদেভ শুরু থেকেই ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের কট্টর বিরোধী। তিনি মনে করেন, কিয়েভকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা উচিত। এমনকি জ্বালানি সংকট নিরসনে পুনরায় রাশিয়া থেকে তেল আমদানিরও পক্ষপাতি তিনি। ইইউ নেতাদের আশঙ্কা, রদেভ ক্ষমতা গ্রহণের পর বুলগেরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা সমস্ত ইউক্রেন সহায়তা চুক্তি বাতিল করে দেবেন। এর আগে হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবান একাই ইইউ-এর অনেক সিদ্ধান্তে ভেটো দিয়ে আসছিলেন। এখন যদি বুলগেরিয়াও একই পথে হাঁটে, তবে ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া ব্রাসেলসের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, বুলগেরিয়ার এই রাজনৈতিক পরিবর্তন ইউরোপের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিতে পারে, যা ক্রেমলিনের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনছে।