ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বড় ধরনের রদবদলের পর প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতেও বইছে ভিন্ন হাওয়া। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর এই শপথ গ্রহণের পরপরই তাকে অভিনন্দন জানিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশে বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ।
দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও মুসলিম-বিদ্বেষী শুভেন্দু অধিকারীর এই বিজয়কে ‘গণমানুষের রায়’ এবং তার ‘বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বীকৃতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে গণহত্যাকারী দল আওয়ামী লীগ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটি বর্তমানে সব ধরনের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ থাকলেও, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতেই এই অভিনন্দন বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে যে নাড়ির টান এবং ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক বন্ধন রয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীর শাসনামলে তা আরও শক্তিশালী হবে। একইসাথে পশ্চিমবঙ্গবাসীর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিতর্কিত নির্বাচনে বিজেপি এবার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শুভেন্দু অধিকারী ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। উল্লেখ্য যে, ঐতিহাসিক এই জয়ের পর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীর দিনে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেখানে আওয়ামী লীগ কোণঠাসা এবং নিষিদ্ধ, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সাথে এমন সখ্যতা গড়ার চেষ্টা ভিন্ন তাৎপর্য বহন করছে। অনেকে মনে করছেন, দিল্লী ও কলকাতার নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের একটি হাস্যকর ও ব্যর্থ কৌশল হতে পারে এই অভিনন্দন বার্তা।