প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে আসামিকে জামিন করিয়ে দিতে ঘুষ দাবির অভিযোগ ফাঁস হওয়ার ঘটনা বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘শতভাগ প্রশ্নবিদ্ধ’ করে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। গতকাল নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সদ্য সাবেক এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে জামিন করিয়ে দেওয়ার জন্য ১ কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর অন্যান্য প্রসিকিউটরদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন চিফ প্রসিকিউটর। বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের জানান এই অভিযোগের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করবেন তারা। শুধু এই বিষয় নয়, এই ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন (২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর) হওয়ার পর সব বিষয়ে অভ্যন্তরীণ কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোনো অনিয়ম পেলে, সে বিষয়ে তিনি তার কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেবেন।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে অবশ্যই ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমি আগেই বলেছিলাম, আমার কর্মকালে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ন্যূনতম দুর্নীতির অভিযোগ এলে বরদাশত করা হবে না। আজ (গতকাল) সকালে বৈঠক করে প্রত্যেক প্রসিকিউটরকে আমি একই কথা বলেছি। আমরা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণভাবে কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করা হবে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কাজ করতে হলে নির্লোভ হতে হবে। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকতে হবে সবাইকে। এমন না হতে পারলে এখানে থাকার প্রয়োজন নেই। যে কেউই চলে যেতে পারবেন।
প্রসিকিউটরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ায় আমি খুবই ব্যথিত ও দুঃখিত। এমন কিছু আমাদের কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠার কথা ছিল না। যখন উঠেছে তাৎক্ষণিকভাবে আগেই এটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। আমরা এটা প্রশ্রয় কেন দিয়েছি জানি না। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আসেনি। এলে আমরা অভ্যন্তরীণ তদন্ত করব।
সূত্র জানায়, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি চট্টগ্রাম-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা চেয়েছিলেন সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এই রেকর্ডিং নিয়ে দুটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানার পর তাকে মামলা থেকে সরিয়ে দেন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তবে সাইমুমের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেননি। ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দায়িত্ব থেকেও সাইমুমকে সরানো হয়নি।
সাইমুমের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে প্রসিকিউটর পদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা গত সোমবার এক প্রজ্ঞাপনে জানায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সাইমুম।