কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নির্দেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও চরমোনাই পীর ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডির এক পোস্টে তিনি এ নির্দেশ দেন। এমপির ফেসবুক পোস্ট দেখে বাদী মামলাটি প্রত্যাহার করেন।
মামলার বিষয়ে নিজে জানেন না উল্লেখ করে পোস্টে মনিরুল হক চৌধুরী লেখেন, আমি সংবাদমাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, আমার নির্বাচনি এলাকা সদর দক্ষিণ থানায় কেউ একজন চরমোনাই পীরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না এবং কে বা কারা এ মামলা দায়ের করেছেন, সে সম্পর্কেও আমার কোনো জানা নেই। বিষয়টি জানতে পেরে আমি বিব্রত হয়েছি।
মনিরুল হক চৌধুরী লেখেন, পরবর্তীতে মামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আমার নেতাকর্মীদের বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে অনুরোধ করতে নির্দেশ দিয়েছি। তারা জানিয়েছে, বাদী মামলা প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছেন। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি এবং আমার অ্যাডভোকেটকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
পোস্টের শেষে মূল ঘটনা উল্লেখ করে এমপি লেখেন, সংসদে সংঘটিত অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার যে অভিযোগ ছিল, তা আমি সংসদেই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লিখিতভাবে উপস্থাপন করেছি। আমি সবসময় আইন, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পক্ষে।
এর আগে গত ২০ জুন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। তিনি নিজেকে যুবদল নেতা দাবি করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রূপ এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাঁড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।