‘আমার বুকের ধন, আমার চোখের মনি। কোথায় চলে গেল। আমার বুকে আর কোনো দিন ফিরে আসবে না। কিন্তু আমার ছেলে এভাবে চলে যাবে, আমি তা মেনে নিতে পারছি না। আমি আমার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভর পদকটি বুকে নিয়ে এভাবেই আহাজারি করছিলেন তার মা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা সাদিকের লাশ উদ্ধার করেন।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ফায়ার ঘাট এলাকায় পন্টুনের সামনে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে স্পিডবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হন সাদিক হোসেন শুভ (২৬)।
সাদিকের মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, বৃহস্পতিবার আমার বুকের ধন সাদিক ওর বাবার কাছে ফোন করে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল। আমার সঙ্গে ওর সর্বশেষ কথা হয় তিনদিন আগে। সামনের সপ্তাহে সে বাড়িতে আসবে বলে জানিয়েছিল। আমার সোনার ছেলে আর মা বলে আমাকে ডাকবে না, আমি এখন কি নিয়ে বেঁচে থাকব?
সাদিক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামের মো. আশরাফ আলী শেখের ছেলে। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে সাদিক মেজো। ২০২১ সালে তিনি ফায়ার সার্ভিসে যোগদান করেন। সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদকও তিনি অর্জন করেন। পাশাপাশি সাদিক চমৎকার ফুটবল খেলতেন। একজন দক্ষ গোলরক্ষক হিসেবে গোয়ালন্দে সাদিকের সুখ্যাতি ছিল।
সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি ছিলেন। পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করাই ছিল তার কাজ।
গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সাদিক চমৎকার ফুটবল খেলতেন। গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমিসহ অনেক ফুটবল দলের হয়ে তিনি বহু ম্যাচে গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন নম্র-ভদ্র ও ভালো ছেলে হিসেবেও এলাকায় তার সুনাম রয়েছে। সাদিকের অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
সাদিকের চাচা, গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. ফজলুল হক বলেন, আমরা জেনেছি সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদীতে ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। তার সঙ্গে আরও ৩ জন সদস্য ছিলেন। স্পিডবোটের সামনের দিকে থাকা ডুবুরি সাদিক ঢেউয়ের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। ৮ ঘণ্টা তল্লাশির পরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে জুমার নামাজ শেষে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে লাশ গোয়ালন্দের বাড়িতে এনে সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।