দীর্ঘদিন পর বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাত ৮টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শুরু হওয়া বৈঠক চলে প্রায় দুই ঘণ্টা। রাত ১০টার দিকে বৈঠক শেষ হয়।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলের জাতীয় কাউন্সিল, সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চলমান বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন নেতারা।
দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু করা যেতে পারে—এ বিষয়টি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ছিল। অধিকাংশ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরুর পক্ষে মত দেন। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট মাস বা সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়নি।
বৈঠকে দলীয় প্রতীকবিহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের বিষয়টিও উঠে আসে। নেতারা মনে করেন, বিভিন্ন এলাকায় দলের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় থাকায় একক প্রার্থী নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে। এ কারণে আগেভাগেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দলের জাতীয় কাউন্সিল নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কাউন্সিল করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তাব এলেও এখনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সংকট ও পুনর্বাসনের বিষয়েও আলোচনা হয়। নেতারা বলেন, গত কয়েক বছরে অনেক নেতাকর্মী চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের কীভাবে স্বাবলম্বী করা যায়, তা নিয়ে মতামত দেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিক সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বেকারত্ব কমানো এবং দলের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জানান, দলের সাংগঠনিক অবস্থা, বন্যা পরিস্থিতি এবং দেশের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নিয়মিতভাবে কমিটির সভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা অন্য কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আব্দুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সেলিমা রহমানসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বিদেশে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাস ভার্চুয়ালি বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।