বিশ্বের মেগাসিটিগুলোর মধ্যে বায়ুদূষণের তালিকায় আজও উপরের সারিতে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সাতসকালে ২৫২ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা।
দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ায় ধুলোবালু ও অন্যান্য দূষক উপাদানের কারণে রাজধানীর বায়ুর মান বর্তমানে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। গতকালও ঢাকা দূষণের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল, যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
একই সময়ে ২৮৭ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে পাকিস্তানের লাহোর। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সেনেগালের ডাকার শহর যার স্কোর ২৫১। এ ছাড়া ২৪৮ স্কোর নিয়ে ভারতের দিল্লি চতুর্থ এবং ২১৩ স্কোর নিয়ে কলকাতা পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়ার এই শহরগুলোতে বায়ুর মান ক্রমাগত অবনতি হওয়া একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভোরে ও রাতের বেলা দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।
বায়ুমান সূচক বা একিউআই অনুযায়ী, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০ হলে তা ‘ভালো’ এবং ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘মাঝারি’ ধরা হয়। তবে স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে সাধারণ সবার জন্যই ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়।
ঢাকার বর্তমান স্কোর ২৫২ হওয়ার অর্থ হলো এটি ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরের ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। বায়ুর মান ৩০০ ছাড়িয়ে গেলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা পরিবেশগত জরুরি অবস্থা নির্দেশ করে।
বর্তমান বায়ুমানের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থ রোগীদের কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এ অবস্থায় সংবেদনশীল গোষ্ঠীকে যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে থাকতে বলা হয়েছে এবং সাধারণ নগরবাসীকে বাইরের কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম সীমাবদ্ধ রাখার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। রাজধানীর এই অসহনীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দীর্ঘমেয়াদী জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।