কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরি এআইয়ের কারণে প্রভাবিত হতে পারে। তিনি বলেন, এই পরিবর্তন হবে অনেকটা ‘সুনামির মতো’, যা শ্রমবাজারে বড় ধাক্কা দেবে।
এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জর্জিয়েভা জানান, উন্নত দেশগুলোতে এআইয়ের প্রভাব ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আর ভারতে এর প্রভাব হতে পারে প্রায় ২৬ শতাংশ। ভারতে প্রতিবছর লাখ লাখ তরুণ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। তাই বিষয়টি ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে এন্ট্রি-লেভেল বা প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরি। এসব কাজের অনেকটাই সহজে স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য উদ্বেগ বাড়ছে। তার মতে, এই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরিতে বিশ্ব ইতিমধ্যে কিছুটা পিছিয়ে আছে।
তবে জর্জিয়েভা বলেন, সঠিকভাবে এআই ব্যবহার করা গেলে এটি ভারতের অর্থনীতিতে বছরে অতিরিক্ত ০.৭ শতাংশ জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) যোগ করতে পারে। এতে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে তিনি ভারত সরকারের এআই গণমুখী করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কর ব্যবস্থা ও শ্রমবাজারে সংস্কারের ফলে ভারত এখন আগের চেয়ে বেশি প্রতিযোগিতামূলক। সরকারি ডিজিটাল অবকাঠামো ও শক্তিশালী ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
ভবিষ্যতের জন্য তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ওপর জোর দেন। শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান নয়, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা ও আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করলে এআইয়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল