ব্যয় সঙ্কোচনের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করতে চায় সরকার। ইতোমধ্যে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে সরকারের ব্যয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এর আওতায় বাজেটের ১১ খাতে ব্যয় সংকোচনের আদেশ দেয়া হয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকটা খাতে ব্যয় সংকোচনের নির্দেশনা চলমান রয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরে ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে ৯ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ ।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে একাধিক খাতে ব্যয় কমানো ও স্থগিতের নির্দেশনা দিয়ে গত রোববার একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

এই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়াত্ত, সংবিধিবদ্ধ, পাবলিক কর্পোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সংশোধিত বাজেটে কতিপয় খাতে বরাদ্দ অর্থ ব্যয় সঙ্কোচন করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। একই সাথে সব ধরনের যানবাহন কেনায় বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়েও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, আপ্যায়ন ব্যয়ে অব্যয়িত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয় বা দফতরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। তবে সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এই সীমাবদ্ধতার বাইরে থাকবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এসব খাতে অবশিষ্ট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। এর বেশি ব্যয় করলে অতিরিক্ত অর্থ ভবিষ্যতে দাবি করা যাবে না। সেমিনার ও কনফারেন্স ব্যয়ে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয়ের সুযোগ রাখা হলেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ভবন নির্মাণ খাতে ব্যয় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্পের কাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে ব্যয় করা যাবে। কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয়েও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালন বাজেটে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় বন্ধ রাখা হয়েছে, যদিও উন্নয়ন বাজেটে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে ব্যয় করা যাবে।

এত দিন, প্রশাসন ক্যাডারের উপসচিব একটি নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ায় ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত অগ্রিম ঋণ পেতেন। এই ঋণের তারা সর্ব্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারতেন। এই প্রজ্ঞাপনে এই ঋণ গ্রহণ কার্যক্রমকে স্থগিত করার কথা বলা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সই করা এ পরিপত্রে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির চাপ মোকাবেলা এবং সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল এই প্রতিবেদককে বলেছেন, ২০২০ সালে কোভিডকালীন সময় থেকেই আমরা প্রতি বছর কৃচ্ছ্র কর্মসূচি পালন করে আসছি। প্রতি বছরই এ খাত থেকে ৫ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। এ বছরও আমরা এর আগে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যয় সঙ্কোচন করার জন্য কয়েকটি খাত চিহ্নিত করেছি। এখন আবার নতুন করে আরো কয়েকটিখাত যোগ করা হয়েছে। আশা করছি চলতি অর্থবছরে ব্যয় সঙ্কোচনের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews