ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দেখা মেলেনি। অস্ট্রেলিয়ার সাথে চট্টগ্রামে টাইগাররা লড়াইও করতে পারেনি। যেন দেখেছে মুদ্রার উল্টো পিঠ। তাতে সিরিজ হাতছাড়া হবার পথে।
সিরিজ বাঁচাতে আজ (শুক্রবার) মাঠে নামছে বাংলাদেশ। যেখানে জয় ছাড়া বিকল্প নাই টাইগারদের। দাঁড়িয়ে আছে খাঁদের কিনারে, পা ফসকালেই শেষ সিরিজ জয়ের স্বপ্ন। স্বাগতিকেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তো?
তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় গড়াবে খেলা।
সিরিজে ফিরতে হলে আজ জিততেই হবে টাইগারদের। শেষ দুই টি-টোয়েন্টি সিরিজে অপরাজিত থাকা বাংলাদেশের জন্য যা বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা প্রথম ম্যাচে অজিরা দেখিয়েছে তাদের শক্তিমত্তার গভীরতা।
যা ভয়ের কারণ লিটন দাস বাহিনীর। প্রথম ম্যাচে পুরো বিশ ওভার ব্যাট করতে পারেননি তাওহীদ হৃদয়-সৌম্য সরকাররা। থিতু হয়েও ফিরেছেন দায়িত্বহীনভাবে। দল কোনোরকমে পাড়ি দেয় তিন অঙ্কের ঘর।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বৃহস্পতিবার বিশ্রামেই কাটিয়েছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটাররা হোটেলের জিম ও সুইমিংপুলে সময় কাটিয়েছেন। ব্যস্ত সূচির মাঝে শরীরকে সতেজ রাখার দিকেই ছিল সবার মনোযোগ।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হতে পারে লিটন দাসের ফেরা। কাফ মাসলের চোটের কারণে প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি নিয়মিত অধিনায়ক। তার বদলে নেতৃত্ব দেন তাওহীদ হৃদয়।
শুক্রবারের ম্যাচে লিটনের ফেরার সম্ভাবনা বেশ জোরালো। অধিনায়কের ফেরা ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দলীয় ভারসাম্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আর একাদশেও পরিবর্তন আসবে নিশ্চিতভাবেই।
এদিকে বাংলাদেশের জন্য চাপের ম্যাচ হলেও অস্ট্রেলিয়া নামবে নির্ভার হয়ে।
তাদের জন্যে সুযোগ এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করার। বড় তারকাদের উপস্থিতিতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে তারা।
প্রথম ম্যাচে টাইগারদের দেয়া ১৩১ রানের লক্ষ্য ১০ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় তারা। তুলে নেয় ৪ উইকেটের জয়। তাদের লক্ষ্য এখন একই ছন্দ ধরে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করা।
আর সেই ছন্দে ফাঁটল ধরানোই এখন লক্ষ্য বাংলাদেশের। যেখানে সঙ্গ দিতে হবে উইকেটকেও। প্রথম ম্যাচে উইকেট কিছুটা ধীরগতির ছিল। পাশাপাশি বাউন্ডারিগুলোও ছিল তুলনামূলক বড়।
জানা গেছে, দ্বিতীয় ম্যাচে বাউন্ডারির মাপ ও উইকেটের প্রস্তুতিতে কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ফলে ব্যাটাররা কিছুটা হলেও বাড়তি সুবিধা আদায় করে নিতে পারবেন।
আর চট্টগ্রামের উইকেট সাধারণত স্পিন সহায়ক। তাই শেখ মেহেদী হাসান ও রিশাদ হোসেনদের ওপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব।
এখন দেখা যাক দায়িত্ব নিয়ে ঘরের মাঠে টাইগাররা কি পারবে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়াতে, নাকি অস্ট্রেলিয়া উদযাপন করবে সিরিজ জয়ের উৎসব?