ধন-সম্পদ থাকলেই যেমন লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না তেমনি অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও পর্যাপ্ত মেধা থাকা সত্ত্বেও সুযোগের অভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পারে না। উড়ার ইচ্ছে অনেকের আছে কিন্তু উড়তে পারছে ক’জন?
শৈশবকালে বাচ্চাদের যদি জিজ্ঞেস করা হয়, বড় হয়ে তুমি কি হতে চাও? কয়েকটি কমন উত্তরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি হচ্ছে- কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার আবার কেউ পাইলট হতে চায়। মেধাবী হলেই সরকারের শিক্ষানীতির কারণে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পথটা কিছুটা সুগম হয়। কিন্তু পাইলট? মেধাবী হলেই হয়ে উঠে না। সাথে প্রয়োজন অর্থ-বিত্তের। পর্যাপ্ত অর্থ-বিত্ত না থাকার কারণে অনেক মেধাবীর পাইলট হওয়ার স্বপ্ন, দূঃস্বপ্ন হয়েই থেকে যায়।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারি এয়ারলাইন্স। প্রায় ১২ বছর অতিক্রম করতে চলেছে। বাংলাদেশে বিমান পরিবহণ শিল্পে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছে। শুরু থেকে একটি অন্যতম সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে পাইলট সংকটে পতিত হচ্ছে বিশ্বের প্রায় সব বিমানসংস্থা। আর এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স পরিকল্পনামাফিক মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে পাইলট তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছে।
২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুইটি ড্যাশ-৮-কিউ৪০০ নিয়ে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলার বিমান বহরে বর্তমানে ৩টি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০, ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ মোট ২৫টি এয়ারক্রাফট রয়েছে। খুব শীঘ্রই আরো চারটি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০ ও এটিআর ৭২-৬০০ এয়াক্রাফট যুক্ত করতে চলেছে ইউএস-বাংলা। যেকোনো বিমানসংস্থার বিমানবহরে এয়ারক্রাফট সংযুক্তির সাথে সাথে অতিরিক্ত পাইলটের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় কিন্তু তা সহজেই স্বল্পতম সময়ে পূরণ করা যায় না। বহরে নতুন এয়ারক্রাফট সংযোজন ও নতুন রুটের ব্যপ্তি ঘটানোর পূর্বেই পাইলট নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা এয়ারলাইন্সের পরিকল্পনারই অংশ।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন সারা লাইফস্টাইল ঈদ কালেকশন
-69b5647dda227.jpg)
অতিরিক্ত পাইলটের চাহিদা পূরণে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বিগত ৩ বছর যাবত কাজ করে যাচ্ছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফ্লাইং একাডেমিতে ক্যাডেট পাইলট তৈরীতে বাছাইসহ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফ্লাইট ট্রেনিং কোর্স শেষ করার পর ফেডারেল এভিয়েশন এ্যাডমিনিস্ট্রেশন কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (এফএএ সিপিএল) প্রাপ্ত হবেন প্রশিক্ষণার্থীরা।
সফলভাবে ফ্লাইট ট্রেনিং শেষ করার পর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে ট্রেইনি ফার্স্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। যা একজন পাইলট প্রশিক্ষণার্থীর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার অপেক্ষায় থাকবে ইউএস-বাংলা। সাথে এভিয়েশনে দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে ইতিহাস সৃষ্টি করবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
শিক্ষাগত যোগ্যতা:
যে সকল মেধাবী শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসিতে ইংরেজি বিষয়ে জিপিএ ৪সহ নূন্যতম জিপিএ ৫ প্রাপ্ত হবেন এবং পদার্থ বিজ্ঞান, সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিতে কমপক্ষে দু’টি বিষয়ে জিপিএ ৫ এবং অন্যটিতে নূন্যতম জিপিএ ৪ প্রাপ্ত হবেন অথবা ‘ও’ লেভেলে গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানসহ নূন্যতম ৫ বিষয়ে গ্রেড-এ।
এইচএসসিতে ইংরেজি বিষয়ে জিপিএ ৪সহ নূন্যতম জিপিএ ৫ প্রাপ্ত হবেন এবং পদার্থ বিজ্ঞান ও গণিতে কমপক্ষে একটি বিষয়ে জিপিএ ৫ এবং অন্যটিতে নূন্যতম জিপিএ ৪ প্রাপ্ত হবেন অথবা ‘এ’ লেভেলে গনিত ও পদার্থ বিজ্ঞানে গ্রেড-বি পেয়েছেন শুধুমাত্র সেসকল শিক্ষার্থীরাই আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন। স্নাতক পাশ অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। ইংরেজিতে সকল আবেদনকারীকে দক্ষ হতে হবে।
বাছাই পদ্ধতি:
ক্যাডেট পাইলটদের নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে আইকিউ টেস্ট, লিখিত পরীক্ষা (ইংরেজি, গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞান), পাইলট যোগ্যতা পরীক্ষা, সাইকোমেট্রিক, মেডিকেল ও মৌখিক পরীক্ষা। সকল টেস্টে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে নির্বাচিতদের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফ্লাইং একাডেমিতে ফ্লাইট ট্রেনিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। নির্দিষ্ট মেয়াদি প্রশিক্ষণ সাফল্যের সাথে সম্পন্নের পর উত্তীর্ণ ক্যাডেট পাইলটগণ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে ফার্স্ট অফিসার হিসেবে যোগদান করতে পারবেন।
বয়স ও অন্যান্য যোগ্যতা:
আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশি হতে হবে এবং অন্য কোনো দেশের নাগরিক হতে পারবে না। আবেদনের সময় বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ২৫ বছর। উচ্চতা – ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৬৮ সেমি এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৬৪ সেমি হতে হবে। প্রার্থীর ওজন হতে হবে বিএমআই এর উচ্চতার আনুপাতিক হারে। দৃষ্টিশক্তি হতে হবে ৬/৬। অধুমপায়ী ও নন-অ্যালকোহলিক হতে হবে। যেকোনো ধরনের অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
উল্লেখ্য ক্যাডেট পাইলট বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনো ধরনের তদবির প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবেন।
আবেদন যেভাবে:
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট www.usbair.com এ ক্যারিয়ার পেইজে ক্যাডেট পাইলট প্রোগ্রামে সরাসরি শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের শেষ তারিখ: ১১ এপ্রিল ২০২৬।