দেখতে দেখতে শেষ হতে চলেছে ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাকর আসর পেশাদার লিগ। ১০ দলের ডাবল রাউন্ড পদ্ধতিতে লিগে সবার এখন তিন ম্যাচ বাকি রয়েছে। তবে কে চ্যাম্পিয়ন হবে বলা মুশকিল। বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনীর মধ্যেই লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাকিদের শিরোপা রেসে আসার সম্ভাবনা নেই বললে চলে। ১৫ ম্যাচে কিংস ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। সমান ম্যাচে আবাহনী ৩১ পয়েন্টে দ্বিতীয় ও ফর্টিস এফসি ২৮ নিয়ে তৃতীয় স্থানে। শীর্ষ তিন অনেকটা নির্ধারিত হয়ে গেলেও বাকিরা কে কোথায় থাকবে বলা মুশকিল।
বসুন্ধরা কিংস ১৫তম ম্যাচে মোহামেডানকে হারিয়ে শিরোপার পথে বড় বাধা অতিক্রম করেছে। শুক্রবার ইয়ংমেন্স ফকিরেরপুলকে ২-০ গোরে হারিয়ে আবাহনীও শিরোপা রেসে ভালোভাবে টিকে রয়েছে। ফর্টিস ৩-২ গোলে রহমতগঞ্জকে পরাজিত করে ২৮ পয়েন্ট পাওয়ায় তাদেরও সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। তারপরও কিংস ও আবাহনীর মধ্যে যেকোনো একটি দল হারানো ট্রফি উদ্ধার করবে তা অনেকটা নিশ্চিত। বাকি ম্যাচগুলোয় ঘটনা কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই দেখার বিষয়।
কিংস তাদের পরবর্তী তিন ম্যাচ লড়বে ৮ মে পুলিশ, ১৫ মে আবাহনী ও ২৩ মে ইয়ংমেন্স ফকিরেরপুলের বিপক্ষে। আবাহনীর প্রতিপক্ষ ৮ মে পিডব্লিউডি, ১৫ মে কিংস ও ২৩ মে আরামবাগ। তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্টের খেলা বলেই বাড়তি চাপ তো থাকবে। দুই দলের লড়াই ছাড়া কিংস বা আবাহনীর বাকি দুই ম্যাচ তেমন কঠিন নয়। তারপরও ৮ মের ম্যাচ ঘিরে দুই জায়ান্টরা কিছুটা হলেও স্নায়ুচাপে থাকবে। কেননা এবারের লিগে কিংস একমাত্র ম্যাচটি হারে পুলিশের কাছে। অন্যদিকে পিডব্লিউডির কাছে হেরে আবাহনী ফেডারেশন কাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। সতর্ক হয়েই তাদের ১৬তম ম্যাচটি খেলতে হবে।
শেষের দিকে এসে দুই জায়ান্ট দুর্বল প্রতিপক্ষের কাছে হারুক বা না হারুক ফুটবলপ্রেমীদের মূলত দৃষ্টি থাকবে ১৫ মে আবাহনী ও কিংসের ম্যাচেই। সেদিনই চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে এবারে কার ঘরে লিগের ট্রফি যাবে? এবার দ্বিতীয় লেগ কুমিল্লা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে নিজেদের হোম ভেন্যুতে আবাহনী অপ্রতিরোধ্য কিংসকে থামাতে পারবে কি, না কিংস শিরোপা নিশ্চিত করবে সেটাই অপেক্ষা। মজার বিষয় হচ্ছে দুই দলের পয়েন্টের ব্যবধান যেমন বড় নয়। তেমনি গোল পার্থক্যের দিক দিয়েও কাছাকাছি। এবারের লিগের নিয়ম অনুযায়ী শীর্ষ দুই দলের পয়েন্ট যদি সমান সমান হয়, তাহলে গোলে যারা এগিয়ে থাকবে তারাই চ্যাম্পিয়ন হবে। পয়েন্টে সমান থেকে দুই দল যদি লিগের শেষ লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় তাহলে শুধু জয় নয়, গোলের ব্যবধান বাড়াতে জান-প্রাণ দিয়ে লড়বে। এ অবস্থায় কেউ যদি শেষ ম্যাচে হেরে যায় তাহলে তিরে এসে তরি ডোবাবে। তবে ম্যাচ এখন একটাই কিংস ও আবাহনীর।