পটুয়াখালীর বাউফলে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মো. আমিনুল ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরকে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা মো. ইয়াছিন হাওলাদার ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকালে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ল্যাংড়া মুন্সির পুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. ইয়াছিন হাওলাদার (২২) ও তার সহযোগী সোহানের (২৩) বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
আহত আমিনুল ইসলাম বাউফল ইউনিয়নের পূর্ব জৌতা গ্রামের মো. হালিম হাওলাদারের ছেলে। তিনি কালাইয়া বাজারে গুড়ের ব্যবসা করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইয়াছিন ও সোহান বেশ কিছুদিন ধরে আমিনুলের গুড়ের দোকানে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমিনুলের ওপর ক্ষিপ্ত হন।
বুধবার বিকালে আমিনুল দোকান বন্ধ করে কালাইয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ল্যাংড়া মুন্সির পুল এলাকায় ইয়াছিন, সোহানসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন। এ সময় লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলায় আমিনুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়। এ সময় তার কাছে থাকা গুড় বিক্রির ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে কালাইয়া বাজারে আর ব্যবসা না করার এবং এ বিষয়ে কাউকে কিছু বললে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা আহত আমিনুলকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. ইয়াছিন হাওলাদার বলেন, আমিনুল ইসলামকে আমি মারিনি। আওয়ামী লীগকে পিটাইতেছি। ছাত্র আন্দোলনের সময় পোলাপানের গায়ে যারা হাত দিয়েছে, তাদের পেয়েছি। আমিনুলের একটি ভিডিও স্টেটমেন্ট আমার কাছে আছে। আমি আপনাকে সাক্ষাৎ দেব।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।