• ১০ সচিব ও ৫ ডিসির পদ শূন্য
  • ৫ মাস ধরে খালি এপিডি পদ
  • চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সচিবরা বয়স্ক হওয়ায় বেশিরভাগ সময় কাটে শারীরিক জটিলতায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর প্রশাসনে গতি ফেরাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে মনোযোগী হতে নিজেই অফিস করছেন সচিবালয়ে। নির্ধারিত সময়ের আগেই নিজ দফতরে প্রবেশ করছেন তিনি। সরকারের সব দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে প্রবেশ করতে তাগিদও দিয়েছেন। এ সব উদ্যোগের পরেও গতি ফেরেনি প্রশাসনে। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) পদ খালি রয়েছে পাঁচ মাস ধরে। পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার করার পরে সেখানে নতুন করে পদায়ন করা সম্ভব হয়নি। শূন্য রয়েছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ। এ ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ দফতর ও সংস্থার পদও খালি রয়েছে। এ সব গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের সিদ্ধান্তের দায়িত্বে থাকা সচিবরা বয়স্ক হওয়ায় এমন জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের সচিব পদমর্যাদায় তিনজন সদস্যের পদও খালি রয়েছে। ভৌত অবকাঠামো বিভাগ, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ এবং শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্যপদে কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা নেই। অন্য দিকে জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য রয়েছে। খালি আছে মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) সিনিয়র সচিবের পদ।

এ ছাড়া গত বছরের ৯ অক্টোবর এপিডি (নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ) উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব এরফানুল হককে সরিয়ে দেয়া হয়। এরপর থেকে শূন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি। বিএনপি সরকার গঠনের পর এপিডি অনুবিভাগের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা যুগ্ম সচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চলে যান। তার সাথে পদায়ন পান একই অনুবিভাগের মোহাম্মদ মামুন শিবলী ও উজ্জ্বল হোসেন। ফলে আরো দুর্বল হয়ে পড়ে জনপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এ অনুবিভাগটি।

এ দিকে গত ১ মার্চ দেশের পাঁচ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রত্যাহার করে সরকার। তারা হলেন গাজীপুরের ডিসি মোহাম্মদ আলম হোসেন, পঞ্চগড়ের ডিসি কাজী মো: সায়েমুজ্জামান, কুষ্টিয়ার ডিসি মো: ইকবাল হোসেন, নেত্রকোনার ডিসি মো: সাইফুর রহমান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি মো: শাহাদাত হোসেন মাসুদ। এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্যসচিবের পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ৯ সিনিয়র সচিবের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়। তারা সবাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রায় সবার মেয়াদই চলতি বছরের শেষের দিকে শেষ হওয়ার কথা ছিল। একই দিন গত সরকারের সময়ে সচিব হওয়া তিনজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয়া হয়। পরে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ১৩ জন কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক সচিব পদে কর্মরত রয়েছেন। যাদের বয়স ৬৫ থেকে ৭০ এর মধ্যে। এ সব কর্মকর্তাই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। কিন্তু বয়সের ভারে দিনের একটি বড় অংশ তাদের শারীরিক জটিলতায় কাটে। কোনো কোনো কর্মকর্তার সকালে শরীরে সুগারের ঘাটতি দেখা যায় আবার বিকেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এ কারণে তারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের জন্ম ১৯৫৫ সালের ২ নভেম্বর। সে হিসাবে গতকাল শনিবার তার বয়স ছিল ৭০ বছর ৪ মাস ১২ দিন। মন্ত্রীপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির জন্ম ১৯৫৭ সালের ৮ মার্চ। গতকাল তার বয়স ছিল ৬৯ বছর ৬ দিন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হকের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি। সে হিসাবে তার বয়স ৭০ বছর ২ মাস ১৩ দিন। নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের জন্ম ১৯৫৬ সালের ৫ মার্চ। সে হিসাবে তার বর্তমান বয়স ৭০ বছর ৯ দিন। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মকসুমুল হাকিম চৌধুরীর জন্ম ১৯৫৬ সালের ৩১ মার্চ। সে অনুযায়ী তার বয়স ৬৯ বছর ১১ মাস ১৪দিন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো: নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়ার জন্ম ১৯৫৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। গতকাল তার বয়স ছিল ৬৭ বছর ৫ মাস ১৪ দিন। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ-এর জন্ম ১৯৬০ সালের ১ জুলাই। সে হিসাবে তার বয়স ৬৫ বছর ৮ মাস ১৩ দিন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর জন্ম ১৯৬৪ সালের ১৭ এপ্রিল। গতকাল তার বয়স ৬১ বছর ১০ মাস ২৭ দিন। পর্তুগালের রাষ্ট্রদুত ড. মো: মাহফুজুল হকের জন্ম ১৯৫৭ সালের ৮ মে হিসাবে তার বয়স ৬৮ বছর ১০ মাস ৭ দিন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের জন্ম ১৯৫৭ সালের ৩০ জুন। গতকাল তার বয়স ৬৮ বছর ৮ মাস ১৪ দিন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের জন্ম ১৯৬১ সালের ৬ মার্চ। সে হিসাবে তার বয়স ৬৫ বছর ৮দিন। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো: কামরুজ্জামান চৌধুরীর জন্ম ১৯৬০ সালের ৩০ ডিসেম্বর। গতকাল তার বয়স ছিল ৬৫ বছর ২ মাস ১৫ দিন। ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এজেএম সালাহউদ্দিন নাগরীর জন্ম ১৯৬৫ সালের ২ মে। গতকাল তার বয়স ছিল ৬০ বছর ১০ মাস ১২ দিন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews