গত অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ থামলেও থামেনি ইসরাইল বর্বরতা। কারণ ইসরাইল এবারও যুদ্ধ বিরতি লংঘন করে হত্যা অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হওয়ার পর বিশ্ববাসী গাজার দুর্ভাগ্য কবলিত লোকদের কথা ভুলতে বসেছে। কারণ গাজা লাইম লাইট থেকে হারিয়ে গেছে। কথা ছিল পর্যায়ক্রমে গাজা পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দেয়া হবে। কার্যত তার কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
ইসরাইলী হামলা অব্যাহত থাকায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া টানা দু’বছরের হামলায় গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ, আহত হয়েছেন এক লাখ সত্তর হাজারেরও বেশি। একই সাথে উপত্যকার প্রায় নব্বই শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ফিলিস্তিনি সূত্র জানিয়েছে। হামাস ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের অভ্যন্তরে ঢুকে নজির বিহীন এক আক্রমণ অভিযান পরিচালনা করে। তাদের লক্ষ্য ছিল গাজাবাসীর সমস্যাটি বিশ্ববাসীর নজরে আনা এবং আটক জিম্মিদের বিনিময়ে ইসরাইলী কারাগারে আটক বন্দী ফিলিস্তিনীকে মুক্ত করা। তারা এসময় ১২০০ মতো ইসরাইলীকে হত্যা ও ২৫১ জনকে ধরে নিয়ে আসে, যার মধ্যে কয়েকজন বিদেশীও ছিলেন। এরপর ইসরাইলী বাহিনী ক্রমাগত প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে আর হত্যা করে হাজার হাজার ফিলিস্তিনীকে। নিহত হন হামাসের শীর্ষ নেতারাও। দু’বছর ধরে চরম ধ্বংসকাণ্ড চালানোর পর গত ১০ অক্টোবর নতুন করে হামাস ইসরাইল যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হয়। এ পর্যায়ে সকল জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হয়, ফেরত দেয়া হয় মৃতদের লাশ। বিনিময়ে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনীও মুক্ত হয়।
এর আগে কয়েক দফা যুদ্ধ বিরতি হলেও তা ভেঙ্গে যায় জায়নবাদী ইসরাইলের একগুঁয়েমিতে। যুদ্ধ বিরতি লংঘন করে হামলা অব্যাহত থাকার পর সবচেয়ে দুঃখের খবর হলো রমযানের প্রথম দিনে গাজায় ইসরাইলী গুলীতে প্রাণ গেছে অন্তত ২ জন ফিলিস্তিনী যুবকের। পবিত্র রমযানের প্রথম দিন গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। অপরজন নিহত হন আরেক এলাকায়। আল জাজিরা, রয়টার্স, আনাদোলুর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই তথ্য। দেখা যাচ্ছে তথাকথিত এ যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইহ্রদী রাষ্ট্র ইসরাইল তার হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসলীলা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু বিশ্ব মোড়লরা এ বিষয়ে নীরব। নীরব মধ্যস্থতাকারী ট্রাম্প প্রশাসন।
সর্বশেষ হামলার বিবরণ দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ভোর থেকেই পূর্ব খান ইউনিস এলাকায় ইসরাইলি সামরিক যান থেকে ভারী গুলিবর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে দক্ষিণ গাজার রাফাহর উত্তরে একটি এলাকায়ও গুলি চালানো হয়। এ ছাড়া মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বাংশে গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। গাজা সিটি ও উত্তরাঞ্চলেও ইসরাইলি যানবাহন থেকে পূর্ব বেইত লাহিয়ার দিকে গুলি ছোড়া হয়। দক্ষিণ-পূর্ব গাজা সিটির জেইতুন এলাকার আল সিক্কা সড়কের আশপাশেও কামান থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বিমান ও কামান হামলাও চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, দক্ষিণ গাজার রাফাহর পূর্বাঞ্চলে বিমান হামলা চালানো হয়। একই সময়ে খান ইউনুসের পূর্ব এলাকায় স্থলবাহিনীর গুলিবর্ষণ এবং উপকূলের দিকে নৌবাহিনীর তীব্র গোলাবর্ষণ হয়। গাজা শহরের পূর্ব অংশেও একযোগে বিমান হামলা ও কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ছয় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত এবং দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
বুঝাই যাচ্ছে গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও কার্যত সেখানে কী চলছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও শতাধিক লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৬০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ৬১৮ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সে কথা আগেও বলেছি। গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধের প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আগের সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট এ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকেই গাজায় ৭৫ হাজারের বেশি ‘সহিংস মৃত্যু’র ঘটনার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ট্রাম্প এখন কী বলছেন ? গাজা যুদ্ধসহ আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ এখনো পুরোপুরি থামাতে পারেননি বলে স্বীকার করেছেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিকে নিজের সাফল্য হিসেবে আইনপ্রণেতাদের সামনে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গাজায় এখন খুবই স্বল্প পরিসরে যুদ্ধ চলছে। এটা প্রায় শেষের দিকে।’ উল্লেখ্য, ভঙ্গুর এ যুদ্ধবিরতির মধ্যে গাজায় প্রায়শ ইসরাইলের হামলায় ফিলিস্তিনিরা প্রাণ হারাচ্ছেন। ট্রাম্প বলেন, গাজায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তির কারণেই হামাসের হাতে থাকা বাকি ইসরাইলি জিম্মিদের সবাইকে মুক্ত করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলী সব জিম্মিকে মুক্ত করে নেয়ার সাফল্য দাবি করলেও গাজাবাসীর দুঃখ মোচন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ভাষণে রয়েছে তার স্বীকারোক্তি। কার্যত এটা ট্রাম্পের গাজাবাসীর সাথে প্রতারণারই শামিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা বলেন, স্বল্প পরিসরে যুদ্ধ চলার কথা বলা হলেও তা সত্যি নয়। প্রতিদিনের হামলা ও হত্যার চিত্রই তার প্রমাণ। বার্তা সংস্থা জানায়, গাজায় সর্বশেষ এ হামলা এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’ গাজার পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনে বৈঠক করছে। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, গাজা পুনর্গঠনে ৯টি দেশ ৭ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র দিচ্ছে আরও ১০ বিলিয়ন ডলার। তবে ফিলিস্তিনিদের মতে, এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে উঠতে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।
হামাস কী বলছে? ইসরাইলের বিরুদ্ধে টিকে থাকার যুদ্ধ থেকে এবার তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে। জানা যাচ্ছে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পরও গাজায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে হামাস। বিবিসি, রয়টার্স এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধবিরতি গত অক্টোবর গাজা যুদ্ধ থামালেও হামাসের লড়াই থামেনি। ইসরাইলের বিরুদ্ধে টিকে থাকার যুদ্ধ থেকে এবার তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে। যুদ্ধে হামাসের শৃঙ্খলাবদ্ধ সামরিক ইউনিটগুলো ভেঙে গেরিলা বাহিনীতে পরিণত হয়। অধিকাংশ নেতা নিহত হন। গাজার ভবন ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়, জনগণ বাস্তুচ্যুত হয়, অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। চার মাস পর গাজার বাসিন্দারা বলছেন, নিরাপত্তা, কর রাজস্ব ও সরকারি সেবায় আবারও নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে হামাস।
শান্তির প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও গাজায় হতাশা কেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, শান্তির প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও গাজায় কেবল হতাশা আর হতাশা। ফলে গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা খুব বেশি আশাবাদি হতে পারছেন না। জানা যায়, গাজার ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের আশ্বাস দিয়ে ওয়াশিংটনে শান্তি বোর্ডের প্রথম বৈঠক হলেও বাস্তবে গাজায় কোনো আশার আলো দেখছেন না ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা। বৈঠকে বিপুল অর্থ সহায়তার ঘোষণা ও আধুনিক গাজার ভিডিও প্রদর্শন করা হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এপি নিউজ বাস্তুহারা ফারাজ আবু আনজের বরাত দিয়ে জানাচ্ছে, সম্মেলন ও প্রতিশ্রুতির কথা বহুবার শোনা গেছে, কিন্তু মাটিতে তার কোনো প্রতিফলন নেই। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস, চারদিকে শুধু তাঁবু আর হতাশা। ঘোষিত সহায়তার পরিমাণ পুনর্গঠনের প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জাতিসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজন অন্তত সত্তর বিলিয়ন ডলার। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ঘোষিত অর্থও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছবে না। তাদের দাবি, শান্তি ও পুনর্গঠনের আগে বাস্তব নিরাপত্তা, ঘরে ফেরার অধিকার এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।
অন্যদিকে গাজার শান্তি বোর্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে সংশয়। সমালোচকদের মতে, এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসঙ্ঘ কাঠামো উপেক্ষা করে গড়ে তোলা হয়েছে, যা শান্তির বদলে ক্ষমতার রাজনীতিকে জোরদার করতে পারে। মিডলইস্ট মনিটর জানাচ্ছে, বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব না থাকাকে গুরুতর ত্রুটি হিসেবে দেখছেন অনেকেই। তাদের প্রশ্ন- দখলদারিত্ব অব্যাহত রেখে কেবল নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা কীভাবে ন্যায্য শান্তি নিশ্চিত করবে? অনেক ইউরোপীয় দেশের অনুপস্থিতিও এ উদ্যোগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ বাড়িয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, শান্তি মানে শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজা আজ বিশ্ব বিবেকের পরীক্ষা। সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে সহিংসতা বন্ধ, নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত এবং ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকার স্বীকৃতি দেয়া জরুরি। ন্যায়বিচার ছাড়া পুনর্গঠন টেকসই শান্তি আনতে পারবে না।
আরেক খবরে জানা যায়, ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড বৈধ করতে নতুন বিল নিয়ে এগোচ্ছে ইসরাইলি পার্লামেন্ট। জানা যায়, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পথ সুগম করতে নতুন একটি বিল এগিয়ে নিচ্ছে ইসরাইলের পার্লামেন্ট। বিলটি পাস হলে দখলদার কর্তৃপক্ষ আইনগতভাবে ফিলিস্তিনিদের ফাঁসি কার্যকর করতে পারবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি তেমন মনোযোগ না পেলেও ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি নতুন এক ভয়াবহ হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। আল জাজিরা এ খবর দিয়ে জানাচ্ছে, বিলটি ২০২২ সালের শেষ দিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে জোট সরকার গঠনের সময়কার রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ। বিলটির দাবিদার ছিলেন তৎকালীন চরম ডানপন্থী নেতা ও বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। গত নভেম্বরে বিলটি প্রথম পাঠে অনুমোদন পায় এবং জানুয়ারিতে এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ ছাড়াই ফাঁসি কার্যকর করা হবে। ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে প্রশাসনিক আটক, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত আচরণের অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, নতুন এই বিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও জেনেভা কনভেনশনের সরাসরি লঙ্ঘন। ফিলিস্তিনিদের আশঙ্কা, আইনটি কার্যকর হলে কারাগারে থাকা হাজারো মানুষের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়বে এবং দখলদারিত্ব আরো সহিংস রূপ নেবে।
সবকিছু মিলিয়ে গাজাবাসী ভাল নেই। রমযানেও তাদেরকে খাদ্যের ব্যাপারে তীব্র কষ্টের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সাহায্য সংস্থার দেয়া অপ্রতুল খাদ্য নিয়েই তারা রোজা পালন করছেন। বিশ্ব দৃষ্টি এ দিকে নিবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে করেন বিশ্লেষকেরা।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।