ইরানের দুর্গম পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। হাতে ছিল মাত্র একটি পিস্তল। চারপাশে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল ইরানি বাহিনী। প্রতি ঘণ্টায় তার কাছে চলে আসছিল ইরানি সেনারা। ঠিক সেই মুহূর্তেই রাতের অন্ধকারে আকাশ চিরে ধেয়ে আসে মার্কিন কমান্ডোদের একটি বিশেষ দল। শুরু হয় সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম দুর্ধর্ষ ও শ্বাসরুদ্ধকর এক উদ্ধার অভিযান।
গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত হয় মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানটি। বিমানের দুই পাইলটই প্যারাসুট নিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। প্রথম পাইলটকে ওই দিনই উদ্ধার করা হয়। তবে নিখোঁজ ছিলেন দ্বিতীয়জন।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শত্রু সীমানার গভীরে কয়েক ঘণ্টা ধরে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা। তার আত্মরক্ষার একমাত্র সম্বল ছিল একটি সাধারণ পিস্তল। ইরানি বাহিনী তার অবস্থানের খুব কাছাকাছি চলে এলেও তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরা দেননি।
কয়েকশ সেনা ও ডজনখানেক আকাশযান
শনিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই অভিযানে কয়েকশ’ মার্কিন স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্য অংশ নেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযানে মোতায়েন করা হয়েছিল ডজনখানেক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দল যখন ওই কর্মকর্তার অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন সেখানে ইরানি কনভয়ের সঙ্গে ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়। মার্কিন অ্যাটাক এয়ারক্রাফটগুলো আকাশ থেকে ইরানি বাহিনীর ওপর মুহুর্মুহু বোমা বর্ষণ করে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করে। এই প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যেই কমান্ডোরা ওই পাইলটকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে তুলে নিতে সক্ষম হন।
ইস্টার সানডের প্রথম প্রহরেই এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সাফল্যের কথা জানান। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের বীর যোদ্ধাকে ফিরিয়ে এনেছি। এটি ছিল আমাদের সামরিক ইতিহাসের অন্যতম সাহসী মিশন। আমরা কাউকে পেছনে ফেলে চলে আসি না।”
ট্রাম্প আরও জানান, “প্রথম পাইলট উদ্ধারের খবরটি ইচ্ছা করেই গোপন রাখা হয়েছিল। দ্বিতীয় অভিযানটি যাতে কোনওভাবে ফাঁস না হয় এবং সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেজন্যই এই গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়েছিল।” সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
বিডি প্রতিদিন/একেএ