ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যজুড়ে ভয়াবহ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরপরই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে চরম অরাজকতা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী এবং বিজেপির কট্টর সমর্থকদের দ্বারা মুসলিম সম্প্রদায় ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় স্থানগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং রাজনৈতিক হত্যার এই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক দিনে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ভয় ও আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে কলকাতা থেকে শুরু করে উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর ও কোচবিহারের মতো জেলাগুলো।

এ ছাড়াও মসজিদের সামনে উচ্চস্বরে সঙ্গীত, গোশতের দোকানে বুলডোজার, মুসলিম ছাত্রীদের বোরকা পরতে নিষেধ- জয়ের পর পরেই উগ্র হিন্দুত্ববাদী কার্যকলাপের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে আসছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থান ও শিক্ষাঙ্গনে হামলা

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন (৪ মে) থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য ভিডিওতে দেখা যায়, গেরুয়া পতাকা হাতে বিজেপির কট্টর সমর্থকরা বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে মিছিল করছে। এসব বিজয় মিছিল দ্রুতই সাম্প্রদায়িক হামলায় রূপ নেয়। উত্তর ২৪ পরগনায় পুলিশের উপস্থিতিতেই হিন্দুত্ববাদী একটি ক্ষুব্ধ উন্মত্ত জনতা ‘হাজি আলি রেস্টুরেন্ট’-এ ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গরুর গোশত বিক্রেতাদের দোকানগুলোতে বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা সরাসরি উত্তরপ্রদেশের ‘বুলডোজার রাজনীতি’র এক ঘৃণ্য অনুকরণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মসজিদের বাইরে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে সেখানে বিজেপির পতাকা উড়িয়ে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে উল্লাস করা হচ্ছে।

হামলার আঁচ থেকে বাদ যায়নি শিক্ষাঙ্গনও। হাওড়ার ডোমজুড়ে অবস্থিত আজাদ হিন্দ কলেজের বাইরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যখন একদল উগ্র যুবক মুসলিম ছাত্রীদের বোরকা পরার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি দেয়। তারা দম্ভভরে ঘোষণা করে, ‘এটি কোনো মাদরাসা নয়’। সংখ্যালঘু নারীদের পরিচয় এবং সাংবিধানিক অধিকারের ওপর এই সরাসরি আঘাত জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য কল্যাণ ব্যানার্জি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ক্ষমতায় আসার পরই উগ্র সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনীতির এক বিপজ্জনক উত্থান ঘটেছে, যা বাংলার ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

প্রগতিশীল ঐতিহ্যে আঘাত

পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ওপর সরাসরি কুঠারাঘাত করছে বিজয়ী দলের সমর্থকরা। বিভিন্ন স্থানে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ধ্বংসের পাশাপাশি প্রখ্যাত মনিষীদের মূর্তিতেও আঘাত হানা হয়েছে। মাদার তেরেসা এবং রাজা রামমোহন রায়ের মতো ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতির কপালে সিঁদুর পরিয়ে বিকৃত করার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে। সেখানে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা প্রখ্যাত সাম্যবাদী নেতা ভ্লাদিমির লেনিনের মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং সেখানে সাম্প্রদায়িক প্রতীক স্থাপনের আস্ফালন করেছে। এ ছাড়া সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বামপন্থী নেতা প্রয়াত জ্যোতি বসুর আবক্ষ মূর্তিতে কালি লেপন করার ঘটনাও ঘটেছে।

এই চরম অরাজকতার প্রতিবাদে ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ পাঁচ দফা দাবি নিয়ে সরব হয়েছে। তারা অবিলম্বে বিরোধী রাজনৈতিক দল, বামপন্থী সংগঠন ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে। সেই সাথে লেনিনের মূর্তি ভাঙচুর ও গরুর গোশত বিক্রেতাদের দোকান ভাঙচুরের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, ভোটার তালিকা কারচুপির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বাংলাদেশবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাতে নিহত ৫

রাজনৈতিক এই পালাবদলের মূল্য চোকাতে হচ্ছে সাধারণ কর্মী ও নেতাদের রক্ত দিয়ে। গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি সরু গলিতে মোটরসাইকেল আরোহী বন্দুকধারীদের গুলিতে নির্মমভাবে খুন হন চন্দ্রনাথ রাথ। তিনি বিজেপির শীর্ষ নেতা এবং রাজ্যের সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পূর্বপরিকল্পিত ও ঠাণ্ডা মাথার খুন’ বলে আখ্যায়িত করে অভিযোগ করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর প্রতিশোধ নিতেই এই খুন করা হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন স্থানে আরো চারজন রাজনৈতিক কর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বিজেপির জয় উদযাপনের সময় যাদব বর (৪৮) নামে এক কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিউটাউনের বালিগুড়ি এলাকায় বিজয় মিছিলে হামলায় নিহত হন মধু মণ্ডল নামে আরেক বিজেপি কর্মী। অন্য দিকে, কলকাতার বেলেঘাটায় তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় এবং বীরভূমের নানুরে আবির শেখ (৪৫) নামে আরেক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করে বিজেপি সমর্থকরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও হামলার শিকার হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালী এলাকায় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য এবং তিনজন বিএসএফ জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রাজ্যজুড়ে এই লাগামহীন সহিংসতার মুখে পুলিশ ও প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে যেতে দেখা গেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সিদ্ধনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিপক্ষকে হুমকি, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে অন্তত ২০০টির বেশি প্রাথমিক অভিযোগ (এফআইআর) দায়ের করা হয়েছে। সহিংসতায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় আগাম সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় এক হাজার ১০০ জনকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে (প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন) নেয়া হয়েছে।

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির পরিসংখ্যানগত প্রভাব

বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে কেবল প্রতিষ্ঠানবিরোধী ক্ষোভ কাজ করেনি; বরং এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের ফসল। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৭, যা ২০২৬ সালে অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০৭-এ দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, দলটি এক ধাক্কায় ১৩০টি আসন বাড়িয়ে নিয়েছে। অন্য দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের আসন ২১৪ থেকে ধসে নেমে এসেছে মাত্র ৮০টিতে। অন্তত ১২৯টি আসন সরাসরি তৃণমূলের হাতছাড়া হয়ে বিজেপির দখলে চলে গেছে।

নির্বাচনী পরিসংখ্যানে ধর্মীয় মেরুকরণের এই নিখুঁত চিত্রটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। যেসব আসনে মুসলিম জনসংখ্যা ১০ শতাংশের নিচে, সেখানে ৮৮টি আসনের মধ্যে ৮৭টিতেই জয়লাভ করেছে বিজেপি (জয়ের হার ৯৮.৯ শতাংশ)। মুসলিম জনসংখ্যা ১০ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে থাকা ৭২টি আসনের মধ্যে ৬৭টিতে তারা জয়ী হয়েছে (জয়ের হার ৯৩.১ শতাংশ)। ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত ৫০টি আসনের মধ্যে ৩১টিতে জিতেছে হিন্দুত্ববাদী দলটি। তবে, যেসব আসনে মুসলিম জনসংখ্যা ৬০ শতাংশের বেশি, সেখানে বিজেপি একটি আসনও পায়নি।

এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, বিজেপি অত্যন্ত সুকৌশলে হিন্দু ভোটব্যাংককে নিজেদের পক্ষে একীভূত করতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচনের আগে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাখ লাখ তথাকথিত ‘অবৈধ’ ভোটারের (যাদের বেশির ভাগই মুসলিম বা অন্যান্য সংখ্যালঘু) নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল, যা বিজেপির জয়ের পথকে আরো সুগম করে।

সীমানা ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে ভীতি প্রদর্শন

বিজেপির এই জয়ের পেছনে একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে ‘হিন্দুরা বিপদে আছে’ (হিন্দু খাতরে মে হে) নামক রাজনৈতিক বয়ান। ২০২৪ সালের পর প্রতিবেশী বাংলাদেশে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার খবরগুলোকে বিজেপি অত্যন্ত সুকৌশলে পশ্চিমবঙ্গে প্রচার করেছে। তারা ভোটারদের মাঝে এই ভীতি ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয় যে, তৃণমূল কংগ্রেসের ‘সংখ্যালঘু তোষণ’ নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গও একদিন বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতিতে পড়বে।

বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণবঙ্গের সীমান্তবর্তী ও উদ্বাস্তু-অধ্যুষিত জেলাগুলোতে এই প্রচারণার ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এই জেলাগুলোর ১১টি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় বিজেপি তাদের আসন সংখ্যা ২৮ থেকে বাড়িয়ে ১০১-এ নিয়ে গেছে, যা তাদের মোট জয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস), বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল এবং হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মতো সংগঠনগুলো হাওড়া, হুগলি, আসানসোল এবং ব্যারাকপুরের শিল্পাঞ্চলে হিন্দু ভোটারদের মনে এই নিরাপত্তাহীনতার বোধ জাগিয়ে তুলতে মাঠে থেকে কাজ করেছে। শিবপুর, রিষড়া এবং গার্ডেন রিচের মতো এলাকার ধর্মীয় সঙ্ঘাতকে ব্যবহার করে বিজেপি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে, তৃণমূলের শাসনে হিন্দুদের উৎসব, সম্পত্তি এবং নারীরা নিরাপদ নয়।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সাংবিধানিক সঙ্কট

নির্বাচনের এই ফলাফল এবং পরবর্তী সহিংসতা রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম এবং ভোট ‘লুট’-এর অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘আমি পরাজিত হইনি।’ তবে, বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল একতরফাভাবে তার সরকার ও মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস এই নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

অন্য দিকে, বিজেপি নেতারা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত। রাজ্যে মোতায়েন করা নজিরবিহীন সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী আগামী ৬০ দিন পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।

পুরো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাধিকা রামশেষণ মন্তব্য করেছেন, বিজেপি ও তার আদর্শিক অভিভাবক আরএসএস মিলে ভারতকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তোলার যে আখ্যান তৈরি করছে, তা ক্রমশ জনমানসে গেঁড়ে বসছে- ‘আগামী দিনে ভারতের ধারণাটিই সম্পূর্ণ পালটে যেতে পারে।’

বিজেপি নেতৃত্ব সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করছে এবং দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের নামে দুষ্কৃতরা অশান্তি ছড়াচ্ছে। তবে ঘরে আগুন, দোকানে বুলডোজার, কলেজে হুমকি আর মসজিদের সামনে উত্তেজনাকর উৎসব- এই ছবিগুলো যতক্ষণ সামাজিকমাধ্যমে ঘুরছে, ততক্ষণ সেই অস্বীকৃতি বিশ্বাসযোগ্যতা পাচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার যখন শপথ নিতে প্রস্তুত, তখন রাজ্যের লাখ লাখ সংখ্যালঘু মানুষের মনে প্রশ্ন একটাই- ক্ষমতার এই উৎসবে তাদের জন্য কতটুকু জায়গা আছে?



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews