ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইনের শিকার হয়ে প্রায় এক বছর বাংলাদেশে আটকে আছে শিশুসহ চার ভারতীয় নাগরিক। গত বছরের জুন মাসে ছয় মুসলিম নাগরিক কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশইনের শিকার হন। এ খবর গণমাধ্যমে প্রচার হলে ভারতের সুপ্রিমকোর্ট তাদের ফেরত নেওয়ার নির্দেশনা জারি করে। পরে দুজনকে ফেরত নিলেও অন্য চারজনকে আজও ফেরত নেয়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশ্রয় পাওয়া চারজন হলেন-ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারাই থানার ধীতর গ্রামের দানেশ শেখ, সুইটি বিবি এবং সুইটির দুই সন্তান কুরবান ও ইমাম হোসেন। ভারত সরকার তাদের ফেরত না নেওয়ায় চরম হতাশা নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে তারা। দানেশ শেখ জানান, ‘বাংলাদেশে ঢোকার পর জেলখানায় ছিলাম। তিন মাস পর জামিনে বের হই। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আমার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনালী খাতুন ও ছেলে সাব্বিরকে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। আমাদেরও ফেরত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চার বছরেও ফিরতে পারলাম না। নিজ জন্মভূমি ভারতে ফেরত যেতে চাই।’ সুইটি বিবির বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারাই থানার ধীতর গ্রামে। তিনি জানান, ‘দিল্লিতে আমরা সাফাইয়ের কাজ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করতাম। সেখানকার পুলিশ আমাদের বাংলাদেশি বলে ধরে এনে প্রথমে আসামে নিয়ে যায়। তারপর রাতের অন্ধকারে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়। পরে আমরা ফিরে গেলে বিএসএফ আমাদের মারধর করে আবার বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। সে সময় তারা আমাদের ভয় দেখায়, যদি ভারতে ফিরে আসি তাহলে আমাদের গুলি করে মেরে ফেলবে। এরপর কিছুদিন কুড়িগ্রাম ও ঢাকায় থাকার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে এলে পুলিশ আমাদের ধরে নিয়ে গিয়ে জেলখানায় পাঠিয়ে দেয়। তিন মাস ১০ দিন পর জেলখানা থেকে জামিনে বের করে ফারুক দাদার (আশ্রয়দাতা) বাড়িতে নিয়ে যায়। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন ও তার ছেলেকে সোনামসজিদ দিয়ে ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ। আমাদেরও নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেয়নি। এক বছর ধরে আমার দুই সন্তানকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আছি।’ এ সময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকুতি জানান, ‘ভারতে আমাদের বাবা-মা আত্মীয়-স্বজন সবাই আছে। আমরা ভারতের নাগরিক। দয়া করে আপনারা আমাদের দেশ ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।’
আশ্রয়দাতা চাঁপাইনবাবগঞ্জের কল্যাণপুর গ্রামের ফারুক হোসেন জানান, ‘আমার দাদার বাড়ি ভারতে। বাংলাদেশের আদালত ছয় ভারতীয় নাগরিককে জামিন দিয়ে আমার জিম্মায় দেন। দুজন ফেরত নিলেও চারজনকে নিতে অস্বীকার করে ভারত। এমনকি সোনালীর স্বামীকেও নেয়নি। আমি এক বছর ধরে চারজনের ভরণপোষণ করছি। এখন আর তাদের খরচ চালানোর সামর্থ্য আমার নেই।’ তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ জানান। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা বলেন, এসব ভারতীয় নাগরিককে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সবসময় চেষ্টা ছিল। কূটনৈতিক চ্যানেলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। ভারত তাদের কেন ফেরত নিচ্ছে না তা তারাই জানে।