বাংলাদেশে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে অত্যন্ত সংক্রামক এবং ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘ক্যানডিডা অরিস’ (Candida auris)-এর আশঙ্কাজনক উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘সুপারবাগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, কারণ এটি সাধারণ অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ওষুধে নির্মূল করা কঠিন।
গবেষণার মূল তথ্য: আইসিডিডিআর,বি-র বিজ্ঞানীরা ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হওয়া রোগীদের ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৭ থেকে ৯ শতাংশ রোগীর শরীরে এই ছত্রাকের উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশ হাসপাতালে ভর্তির পর সংক্রমিত হয়েছেন। বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) এই ছত্রাকের সংক্রমণ হার আরও বেশি।
কেন এটি বিপজ্জনক?
১. ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা: ক্যানডিডা অরিস ছত্রাকটি ফ্লুকোনাজোলসহ সাধারণ অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ফলে এটি শরীরে রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
২. উচ্চ মৃত্যুঝুঁকি: গবেষণায় দেখা গেছে, এই সুপারবাগে আক্রান্ত হয়ে রক্তে সংক্রমণ (Sepsis) দেখা দিলে মৃত্যুঝুঁকি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
৩. দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান: এটি হাসপাতালের বিছানা, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং মানুষের ত্বকে দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে, যা দ্রুত এক রোগী থেকে অন্য রোগীর শরীরে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি করে।
ঝুঁকিতে কারা? যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত কম, যাঁরা দীর্ঘ সময় আইসিইউতে আছেন কিংবা যাঁদের শরীরে ক্যাথেটার বা ভেন্টিলেটরের মতো কৃত্রিম যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের মধ্যেও এর ঝুঁকি লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: আইসিডিডিআর,বি-র গবেষকরা জানিয়েছেন, এই সংক্রমণ রোধে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা (Infection Control) জোরদার করা জরুরি। বিশেষ করে আইসিইউতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করা এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ওষুধের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ক্যানডিডা অরিস-কে জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম প্রধান হুমকি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বাংলাদেশে এর বিস্তার রোধে এখন থেকেই সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।