এবাড়ি, ওবাড়ি, আশপাশে সব বাড়ির লোকজন মহাব্যস্ত। গ্রামের সব বাড়িতে চলছে এখন কোরবানি উৎসব। কেউ গরু, কেউ ছাগল, কেউবা মহিষ কোরবানি দিয়েছেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সারাদেশের মতো চট্টগ্রামের মিরসরাইয়েও চলছে পশু কোরবানি। সামর্থ্য অনুযায়ী ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পশু কোরবানি করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৮) সকালে ঈদুল আজহার নামাজের পরপরই উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার ২১০টি গ্রামে শুরু হয় পশু কোরবানি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ত্যাগের মহিমায় যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পশু কোরবানি করছেন মানুষ। কেউ কোরবানি দিচ্ছেন বাড়ির ভেতর, কেউ বাড়ির আঙিনায়, কেউ রাস্তায় থাকা নির্ধারিত স্থানে। কোরবানির কসাইরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। চামড়া ছাড়িয়ে গোশত কাটার কাজ করছেন তারা।

জানা গেছে, কোরবানিকে ঘিরে অভিজ্ঞ ও দক্ষ কসাইয়ের মজুরি এবার বেশ চড়া। অনেকেই অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও কসাই পাচ্ছেন না, ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে নিজেরাই স্বজনদের নিয়ে পশু কোরবানির কাজ করছেন।

ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি দিচ্ছি। আল্লাহপাক তৌফিক দিয়েছেন তাই প্রতিবারের মতো এবারও পশু কোরবানি দেয়া হয়।’

মিরসরাই পৌর সদরের বাসিন্দা জাহিদ হুসাইন বলেন, ‘শুধু কোরবানি দিলে হবে না। কোরবানির পশুর সাথে যেন মনের পশুও কোরবানি দেয়া হয় সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

ওমান প্রবাসী আমির হোসেন বলেন, প্রবাসে থাকার কারণে বাড়িতে সব সময় থাকতে পারিনা। এবার কোরবানি দিতে বাড়িতে আসছি। কোরবানি দিয়ে সব কাজ নিজেই করছি। আনন্দ লাগছে।

ওচমানপুর এলাকার বাসিন্দা কামাল উদ্দি বলেন, ‘আমি সাধারণত মহিষ দিয়েই কোরবানি দিয়ে থাকি। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। কাটাকাটি শেষ হলে আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেব।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চড়া মজুরি চাচ্ছেন অভিজ্ঞ কসাইরা। অনেকে চড়া মজুরি দিয়েও কসাই পাননি। তাই অনেকে বাধ্য হয়েই মৌসুমি কসাই দিয়ে চামড়া ছাড়ানোর কাজ করাচ্ছেন। অনেক কোরবানিদাতাই এবার কসাইয়ের অভাবে কোরবানি দেবেন দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিন।

দক্ষিণ মঘাদিয়া ঘোনার বাসিন্দা মো: শাহজাহান বলেন, ‘বছরে একদিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোরবানি করে থাকি। গরু জবাই থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজ করে থাকি। অন্যরকম আনন্দ পাওয়া যায়।’

মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: জাকিরুল ফরিদ বলেন, ‘এবার উপজেলাজুড়ে ৫৩ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। ৬০ হাজার ৩০০ পশু প্রস্তুত ছিল। খামারিরা অন্য বছরের তুলনায় পশুর দামও ভালো পেয়েছেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews