চলমান ইরান-আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধে যখন মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, তখন সুকৌশলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে চলেছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন।

ওয়াশিংটনের আগ্রাসী নীতির বিপরীতে বেইজিং নিজেকে একজন ‘দায়িত্বশীল বিশ্বশক্তি’ হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটিকে ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সউদী আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে এক ফোনালাপে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। যুদ্ধের কারণে গত সাত সপ্তাহ ধরে এই জলপথটি প্রায় অচল হয়ে আছে। মজার বিষয় হলো, শি জিনপিং তার বক্তব্যে সরাসরি কোনো পক্ষের নাম না নিলেও পরোক্ষভাবে আমেরিকার ‘ব্লকেড’ বা অবরোধ নীতির সমালোচনা করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুদ্ধের ময়দানে তার ‘বিরাট জয়’ নিয়ে দম্ভোক্তি করছেন, সেখানে চীন অত্যন্ত শান্ত ও পরিপক্ক কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখছে। ইসরাইল-এশিয়া পলিসি প্রোগ্রামের প্রধান গেডালিয়া আফটারম্যান বলেন, ‘চীন কোনো নাটকীয় পদক্ষেপ না নিয়ে বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আমেরিকাকে এই বিশৃঙ্খলা সামলাতে দিয়ে নিজে সুযোগের অপেক্ষায় থাকছে।’

চীনের এই কৌশলের মূলে রয়েছে তাদের ‘অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার’ নীতি। ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও চীন একইসাথে সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং এমনকি ইসরাইলের সাথেও সুসম্পর্ক বজায় রাখছে। বেইজিংয়ের প্রধান লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কারণ চীনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ৪০ শতাংশই আসে এই অঞ্চল থেকে। যদিও গুঞ্জন রয়েছে যে চীন গোপনে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট দিয়ে সহায়তা করছে, তবে বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে একজন ‘শান্তিস্থাপনকারী’ হিসেবেই প্রচার করছে। সামনে ট্রাম্পের সাথে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠক এবং চীন-আরব সম্মেলনের কথা মাথায় রেখে বেইজিং বর্তমানে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলছে।

সংক্ষেপে, আমেরিকা যখন সামরিক শক্তির মাধ্যমে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে চাইছে, চীন তখন অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ‘যুদ্ধ-পরবর্তী’ মধ্যপ্রাচ্যে নিজের জায়গা পোক্ত করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর এই ‘চীনমুখী যাত্রা’ বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে চীনের এই সক্রিয় ভূমিকা বেইজিংকে ওয়াশিংটনের একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে। আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর মতে, চীন নিজেকে একজন ‘স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোকে আকৃষ্ট করছে। সূত্র : এসসিএমপি।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews