ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, সিএএ’র আওতার বাইরে থাকা ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’দের গ্রেপ্তার করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং পরে সংশ্লিষ্ট দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার ২১ মে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্ন’এ মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন শুভেন্দু। সেখানে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো নির্দেশিকা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে সিএএ কার্যকর শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আগের সরকার কেন্দ্রের পাঠানো নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেনি। তার ভাষ্যে, সিএএ’র আওতায় থাকা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া হবে, তবে আওতার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে বিবেচনা করে রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করবে এবং বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করবে। শুভেন্দু বলেন, বিজিবির সঙ্গে কথা বলে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট। একইসঙ্গে সীমান্তবর্তী থানাগুলোতে এ সংক্রান্ত আইন কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত সরকারের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা তার আশঙ্কায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা সিএএ’র আওতায় নাগরিকত্বের সুযোগ পেতে পারেন। এদিকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ শনাক্ত ও ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ, বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপন এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর বিধান রাখা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ ধরনের ঘোষণা ও বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার অঙ্গনে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের মতে, নাগরিকত্ব যাচাই, আটক ও প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার, আইনি সুরক্ষা এবং পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।