পাকিস্তানের ইনিংসের শততম ওভারের প্রথম বলটি একটু টেনে করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। কাভার ড্রাইভ খেলেন শাহিন আফ্রিদি। বলটি ভাসানো ছিল এবং সামান্য স্পিনও করেছিল। ঠিকমতো ড্রাইভ করতে পারেননি। শর্ট কাভারে দাঁড়িয়ে খুব সহজে ক্যাচ নেন মুমিনুল হক। আনন্দে হেসে ওঠেন মিরাজ। আঙুল নাচিয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে দেখিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ওয়ানডে অধিনায়ক মিরাজ। মিরপুর টেস্টে আফ্রিদির উইকেটটি মিরাজের পঞ্চম বা ফাইফার। স্কোর বোর্ডে পাকিস্তানের নামের পাশে তখন লেখা ৯৯.১ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৭৪। পরের ওভারে সফরকারীদের ৩৮৬ রানে গুটিয়ে দেন বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ২৭ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ তৃতীয় দিন শেষ করে বিনা উইকেটে ৭ রান তুলে। আজ চতুর্থ দিন ৩৪ রানে এগিয়ে ব্যাটিংয়ে নামবেন দুই অপরাজিত ব্যাটার সাদমান ইসলাম ও মাহামুদুল হাসান জয়। বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও আশার কথা, তৃতীয় দিনের তৃতীয় সেশন থেকে উইকেটে বল স্পিন করছে। চতুর্থ দিন বল হয়তো আরও ঘুরবে। পঞ্চম দিন লাটিমের মতো ঘুরবে! অথচ শুরুর দুই দিন উইকেট পেতে পেসারদের ঘাম ঝরাতে হয়েছে।

টানা এক ঘণ্টা বৃষ্টি হয়েছে। খেলা বন্ধ ছিল প্রায় দুই ঘণ্টা।। বৃষ্টির জন্য চার বিরতি এগিয়ে আনেন দুই আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা ও রিচার্ড ক্যাটেলবোরো। প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকার পর ৪টা ১৫ মিনিটে পুনরায় খেলা শুরু করেন আম্পায়াররা। ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত খেলা চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও আলোর স্বল্পনতায় আগেই বন্ধ হয়ে যায় খেলা। পুনরায় খেলা শুরুর পর সব মিলিয়ে খেলা হয়েছে ১২.৪ ওভার বা ৭৬ বল। প্রথমবার খেলা বন্ধ হয় ৮৯.৪ ওভারে মোহাম্মদ রিজওয়ান আউট হওয়ার পর। এরপর টানা বন্ধ ছিল। আজ খেলা ১৫ মিনিট এগিয়ে এনেছেন আম্পায়ারদ্বয়।

মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন ৪ উইকেটে ৩০১ রান ছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় দিন ৪১৩ রানে গুটিয়ে যায় নাজমুল বাহিনী। পাকিস্তান দিন শেষ করেছিল ১ উইকেটে ১৭৯ রান তুলে।। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দিন উইকেটের পতন হয়েছিল ৭টি। গতকাল তৃতীয় দিন পতন হয় ৯ উইকেটের। সব মিলিয়ে তিন দিনে উইকেটের পতন হয়েছে ২০। পাকিস্তানের ১০ উইকেটের ৭টি নিয়েছেন দুই স্পিনার মেহেদি মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। বাকি ৩ উইকেট নিয়েছেন পেসাররা। তাসকিন আহমেদ ২ উইকেট নিয়েছেন। তার স্পেল ১৮-২-৭০-২।  নাহিদ রানার স্পেল ২১-২-১০৪-১। গতিতে বল করলেও উইকেটশূন্য ছিলেন ইবাদত হোসেন। মিরাজ উইকেট থেকে স্পিন আদায় করে নেন। টেস্টের দ্বিতীয় দিন মিরাজ উইকেট নেন একটি। গতকাল নেন ৪ উইকেট। দিন শেষে অফ স্পিনার মিরাজের স্পেল ৩৮-৫-১০২-৫। চলতি টেস্টে পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আব্বাস নেন ৫ উইকেট। মিরাজ তার ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট নিয়েছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে তার স্পেল ছিল ২২.১-২-৬৪-৫। পাকিস্তানের বিপক্ষে স্পিনারদের মধ্যে প্রথম ফাইফার নেন বাঁ-হাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিক, ২০০৩ সালে পেশোয়ারে ১১৮ রানে ৫ উইকেটে। একই সিরিজের মুলতান টেস্টে রফিক ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ৩৬ রানে। সাকিব আল হাসান একবার ৫ উইকেট নেন। তাইজুল ইসলাম দুবার নেন ফাইফার। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেরা বোলিং তাইজুলের ১১৬ রানে ৭ উইকেট। আরেকবার নেন ৬ উইকেট। ৫৭ টেস্ট ক্যারিয়ারে মিরাজ ৫ উইকেট নিয়েছেন ১৪ বার। উইকেটে বল টার্ন করছে কি না, উত্তরে মিরাজ বলেন, ‘ওরকম বেশি স্পিন হচ্ছিল না। কিন্তু আমি চেষ্টা করেছি ভালো জায়গায় বল করার জন্য। আবার একই সময় কিছু সুবিধাও পেয়েছি। সব বল যে স্পিন করেছে এরকম না। কিছু কিছু বল স্পিন করেছে। সো ওইটা হয়তো ব্যাটসম্যানের মাইন্ডে ডাউট ক্রিয়েট হয়েছে। এর জন্য হয়তো উইকেটটা পেতে আরও ইজি হয়ে গেছে।’ বাংলাদেশ এগিয়ে ৩৪ রানে। হাতে ১০ উইকেট। টেস্টের খেলা বাকি এখনো দুই দিন। ব্যাটারদের জন্য একটু কঠিন হবে ব্যাটিং করা। এমন সমীকরণে কত রান ডিফেন্ডেবল? উত্তরে মিরাজ বলেন, ‘২৯০-৩০০ রান।’ আজ কত রান করবে বাংলাদেশ, সেটাই দেখার বিষয়।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews