সাধারণত শৌখিন বা বাণিজ্যিক খামারের দেখা মিললেও চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মাথাভাঙ্গা নদী বেষ্টিত গ্রামগুলোতে এখন দেখা মিলছে সাদা মেঘের মতো ধবধবে ঝাঁকে ঝাঁকে পেকিন জাতের হাঁস। মাংস উৎপাদনের জন্য বিশ্বখ্যাত এই জাতের হাঁস পালন করে অভাব জয় করেছে স্থানীয় প্রান্তিক নারী ও পুরুষ খামারীরা। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে নতুন এক মাত্রা।

সাদা ধবধবে একঝাঁক হাঁস। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন মাটির বুকে বিছিয়ে আছে এক টুকরো সাদা মেঘের ভেলা। বিশ্বব্যাপী দ্রুত বর্ধনশীল ও গোশত উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত এই ‘পেকিন’ জাতের হাঁস এখন দামুড়হুদা উপজেলার পারকেস্টপুর, কালিদাসপুর, বেষ্টপুর ও গোবিন্দহুদাসহ নদী বেষ্টিত গ্রামের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। এই হাঁস পালন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন নারী ও পুরুষ খামারীরা।

অভাবকে জয় করে আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন এই এলাকার অসংখ্য নারী ও পুরুষ খামারী। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর স্পেশাল প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কারিগরি সহায়তায় গড়ে উঠেছে এসব খামার। যেমন গোবিন্দহুদা স্কুলপাড়ার লতিফা খাতুন কিংবা কলুপাড়ার ডলি খাতুন। এক সময় যারা কেবল গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত থাকতেন, তারা আজ স্বাবলম্বী।

লতিফা খাতুন জানান, তিনি ১৮ হাজার টাকা ব্যয় করে ৫২টি হাঁস নিয়ে একটি খামার তৈরী করেন। এ পর্যন্ত তিনি ৫০ হাজার টাকার হাঁস বিক্রি করেছেন, এখনো কিছু হাঁস আছে। সেগুলো বিক্রি করে আরো আয় করতে পারবেন। আগামীতে পরিকল্পিত উপায়ে আরো হাঁস পালন করে বিক্রি করবেন বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।

একই এলাকার কলুপাড়ার ডলি খাতুন জানান, তিনি ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় ৫০টি হাঁস পেয়েছেন। তিনি ২০টি হাঁস বিক্রি করেছেন ২০ হাজার টাকা দরে, এখনো ৩০টি হাঁস আছে সেগুলোও বিক্রি হবে। এই এলাকায় সাতজন হাঁস পালন করেছে,তারা সকলেই হাঁস বিক্রি করে লাভবান হয়ে তাদের সংসারে সফলতা এনেছে।

বেষ্টপুর গ্রামের কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী জিহাদ পড়াশোনার পাশাপাশি এখন একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। অন্যদিকে চিৎলা কবরস্থানপাড়ার তারা মনি ও আদুরী খাতুন এরা সকলেই সফল হাঁস খামারী। তারা জানায়, মাত্র ৮০ থেকে ৯০ দিন লালন-পালনের পর বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে এই পেকিন জাতের হাঁস। বাজারে এর গোশতের চাহিদা ও দাম দুটোই ভাল।

তবে এই সাফল্যের গল্প শুধু গৃহিণীদের নয়, অনুপ্রাণিত করছে তরুণদেরও। এখন তারা আর পরনির্ভরশীল নন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই উপজেলায় পেকিন হাঁস পালনে এক নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে।

চুয়াডাঙ্গা ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আবু সুফিয়ান খান জানান, আমরা দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দহুদা ও বিষ্ণুপুর গ্রামে ১৫ জন খামারীকে পেকিন জাতের হাঁস অনুদান দেয়া হয়েছে। খামারীদের ৫০টি হাঁসের বাচ্চা, মাচা তৈরির ব্যয়, খাবার, ভেক্সিনেশন এবং টেনিংয়ের মাধ্যমে আমরা হাঁস পালনে সহযোগীতা দিয়ে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এই হাঁস পালন করে তিন মাসের মধ্যে একেকটি হাঁসের ওজন হয়েছে সাড়ে তিন কেজি। এই খামারীরা এই হাঁস বিক্রি করে ভাল দাম পেয়ে বেশ লাভবান হয়েছে। সঠিক তদারকিতে খামারীদের মাধ্যমে বদলে গেছে এলাকার আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট।

গোবিন্দহুদার স্বপ্নারা এখন আর পরনির্ভরশীল নন। সঠিক প্রশিক্ষণ আর সামান্য আর্থিক সহায়তা পেলে গ্রামীণ অর্থনীতি যে আমূল বদলে যেতে পারে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চুয়াডাঙ্গার এই প্রান্তিক নারী-পুরুষ খামারীরা। এই হাঁস পালনে তারা আরো উদ্বুদ্ধ হয়ে বৃহৎ পরিসরে হাঁসের খামার করার উদ্যোগ নেবে বলে তিনি জানান।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নীলিমা আক্তার হ্যাপি বলেন, ‘পিকেএসএফ ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের হাত ধরে চুয়াডাঙ্গার এই প্রান্তিক নারী-পুরুষ এখন দেখছে রঙিন আগামীর স্বপ্ন।’

এই সহযোগীতার আওতায় আরো গ্রামীণ গৃহিনী ও যুব উদ্যোক্তাদের সংপৃক্ত করার দাবী জানিয়েছেন তিনি।

এক্ষেত্রে উপজেলা প্রাণিসম্পদ সার্বিক সহযোগীতা করেছেন ও করবেন বলে জানান তিনি।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews