যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরের শৈশব স্মৃতি থেকে শুরু করে বিশ্বজয়ী শিল্পীতে পরিণত হওয়ার গল্প—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের বহুল প্রতীক্ষিত হলিউড বায়োপিক ‘মাইকেল’ এখন দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে। লায়নসগেইট প্রযোজিত ছবিটি গত ২৪ এপ্রিল বিশ্বের ৮০টি দেশে মুক্তি পেয়েছে এবং মুক্তির আগেই এটি নিয়ে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ।
ছবির শুরুতেই উঠে আসে ছোট্ট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের কঠোর বাস্তবতা। স্টিল মিল শ্রমিক বাবা জোসেফ জ্যাকসনের কঠোর শাসন আর উচ্চাকাঙ্ক্ষার মধ্যেই বড় হতে থাকে জ্যাকসন পরিবার। সংগীতচর্চায় নিখুঁত হওয়ার চাপ, রাতভর অনুশীলন, এমনকি ভুলের শাস্তি—সবকিছু মিলিয়ে মাইকেলের শৈশব ছিল একই সঙ্গে কষ্টময় ও গড়ার সময়। তবে মা ক্যাথরিন জ্যাকসনের স্নেহ আর সমর্থনই তাকে মানসিকভাবে টিকিয়ে রাখে।
পরিচালক আতোঁয়ান ফুকুয়া ও লেখক জন লোগান ছবিতে একটি আকর্ষণীয় রূপক ব্যবহার করেছেন—মাইকেল জ্যাকসনকে তুলনা করা হয়েছে ‘পিটার প্যান’-এর সঙ্গে। চিরকিশোর, স্বাধীনচেতা এক সত্তা হিসেবে মাইকেলের মানসিক জগতকে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তার বাবাকে দেখানো হয়েছে যেন ‘ক্যাপটেন হুক’-এর প্রতীকী রূপে—নিয়ন্ত্রণ আর ভয়ের এক প্রতিচ্ছবি। এই দ্বন্দ্বই মাইকেলের স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয় খোঁজার যাত্রাকে আরও গভীর করেছে।

চরিত্রায়ণে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন মাইকেলের ভাইপো জাফর জ্যাকসন। তার অভিনয়ে ফুটে উঠেছে এম.জের কণ্ঠ, নাচ, অভিব্যক্তি—এমনকি সেই স্বপ্নময় দৃষ্টিও। বড় ক্যানভাসে নির্মিত এই ছবিতে সত্তর-আশির দশকের আবহ তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ভিজ্যুয়াল টোন, যদিও কিছু স্টেজ দৃশ্যে আধুনিকতার ছাপ চোখে পড়ে।
ছবিতে মাইকেলের জনপ্রিয় গানগুলোর পেছনের সামাজিক বাস্তবতাও তুলে ধরা হয়েছে। ‘বিট ইট’ বা ‘ব্যাড’-এর মতো গানগুলোর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে গ্যারি শহরের দারিদ্র্য, গ্যাং সংস্কৃতি এবং বর্ণবৈষম্যের প্রভাব। একইসঙ্গে ‘থ্রিলার’-এর মতো গানে তার ব্যক্তিগত একাকিত্ব ও মানসিক অস্থিরতার প্রতিফলনও তুলে ধরা হয়েছে।
তবে সমালোচনাও কম হয়নি। মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়—বিশেষ করে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ—ছবিতে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্মাতারা সচেতনভাবেই শিল্পী হিসেবে তার যাত্রাকে প্রাধান্য দিয়েছেন, ব্যক্তিগত বিতর্ক নয়।
সব মিলিয়ে, ‘মাইকেল’ একদিকে যেমন একজন কিংবদন্তির উত্থানের গল্প, অন্যদিকে তেমনি শিল্প, স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের এক আবেগঘন চলচ্চিত্র—যা দর্শকদের মনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।