চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দারুণ ব্যাটিং করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। দুজনের ব্যাটিংয়েই লড়াকু সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। ছিনিয়ে আনে সিরিজ নির্ধারণী এক জয়। নিউজিল্যান্ডকে বাংলাদেশ ৫৫ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের পক্ষে চতুর্থ সেরা জুটি গড়লেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। দুজন মিলে ১৭৮ বলে করলেন ১৬০ রান। এই জুটিই লড়াকু স্কোর এনে দেয় বাংলাদেশকে। না হলে চট্টগ্রামের উইকেটে ইনিংসের শুরুতে মুখ থুবড়েই পড়ছিলেন টাইগাররা! এই জুটিতে লিটন দাসের অবদান ৯১ বলে ৭৬ রান। নাজমুল হোসেন শান্তর অবদান ৮৭ বলে ৮২ রান। লিটন দাস ৭৬ রান করেই সাজঘরে ফিরেছেন। ৩টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন লিটন। শান্ত করেছেন ১১৯ বলে ১০৫ রান। ৯টি চারের পাশাপাশি ২টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন শান্ত। ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চতুর্থ উইকেট জুটিতে সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস করেছিলেন ১৮৯ রান। এটাই এখন পর্যন্ত চতুর্থ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান। রাজিন সালেহ ও হাবিবুল বাশার চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১৭৫ রান করে রেকর্ডটা গড়েছিলেন ২০০৬ সালে। সেবার ফতুল্লায় কেনিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামে বাংলাদেশ। রাজিন-বাশার জুটিকে পেছনে ফেলেন সাকিব-লিটন। ২০০৯ সালে চতুর্থ উইকেটে সাকিব-রাকিবুল করেন ১৬৫ রান (জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে)।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে বড় রান পাওয়া বাংলাদেশ আগের তিনটি ম্যাচেই জয় পায়। ২০০৬ সালে কেনিয়াকে পরাজিত করে ৭ উইকেটে (৫১ বল হাতে রেখে)। ২০০৯ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়েকে পরাজিত করে ৭ উইকেটে (১২৩ বল হাতে রেখে)। ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে ৫১ বল হাতে রেখে। কাকতালীয় হলেও সত্যি, চতুর্থ উইকেট জুটিতে বড় রান করা আগের তিনটা ম্যাচেই ৭ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। গতকাল অবশ্য সেই সুযোগ ছিল না, বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করার কারণে।

বাংলাদেশের ইনিংসে বিপদ ডেকে এনেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। দুজনেই প্লেড অন হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ও’রোয়ার্কের অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি তানজিদ। ব্যাটে লেগে বল স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়। বোল্ড হয়ে উইকেট ছাড়েন তানজিদ। নবম ওভারে সৌম্যও একইভাবে আউট হয়ে যান। এবারও শিকারি ও’রোয়ার্ক। ২৬ বলে ১৮ রান করেন সৌম্য। বাংলাদেশ তখন ৩ উইকেটে ৩২। আরও একবার ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়বে কী বাংলাদেশ! এমন শঙ্কায় ছিলেন সমর্থকরা। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। কিউই বোলারদের তেমন কোনো সুযোগই দেননি দুজন। ঠান্ডা মাথায় ধীরে-সুস্থে খেলে দলকে টেনে তুললেন খাদ থেকে।

নাজমুল ক্যারিয়ারের চার নম্বর ওয়ানডে সেঞ্চুরি করলেন। ২০২৩ সালের ১২ মে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে চেমসফিল্ডে প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেন তিনি (১৫৬ বলে ১১৭ রান)। এরপর একই বছরের সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে লাহোরে খেলেন ১০৪ রানের ইনিংস। চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০২৪ সালের মার্চে ১২২ রানের অপরজাতি ইনিংস খেলেন শান্ত। এরপর থেকে টানা ২০ ইনিংস সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। দীর্ঘদিন পর হাফসেঞ্চুরির দেখা পেলেন লিটন দাস। তিনি ১৯ ইনিংস পর হাফসেঞ্চুরি করলেন। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন লিটন। এরপর থেকেই হাফসেঞ্চুরির দেখা পাচ্ছিলেন না তিনি।

লিটন-শান্তর দূরন্ত ব্যাটিংয়েই জয়ের জন্য পুঁজি সংগ্রহ করে নেয় বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় শেষ দিকে ২৯ বলে ৩৩ রান ও মিরাজ ১৮ বলে ২২ রান করে ইনিংস বড় করেন। ব্যাটারদের পর বাকি কাজটা করে দেন বোলাররা। মুস্তাফিজ ইনজুরি থেকে ফিরেই ৫ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দেন। এ ছাড়া নাহিদ রানা ও মিরাজ ২টি করে এবং শরিফুল ১টি উইকেট শিকার করেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews