জাতিসংঘের এ কূটনৈতিক তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে চালানো অন্য তৎপরতার তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এত দিন যুক্তরাষ্ট্র মূলত জাতিসংঘের কাঠামোর বাইরে গিয়ে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছিল এবং মিত্রদের ওপর নিজস্ব তদারকিতে নৌ টহল দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। অনির্দিষ্টকালের সংঘাত ও আইনি জটিলতার আশঙ্কায় অনেক দেশই এতে সায় দেয়নি। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মিত্রদেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন।
ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সোমবারের উত্তেজনার পর ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ট্যাংকার ও অন্যান্য জাহাজ সরিয়ে নেওয়া। এর মধ্যেই নতুন এ খসড়া প্রস্তাবের খবর এল, যাকে কূটনীতিকেরা ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে বর্ণনা করছেন।
একটি নথিতে দেখা গেছে, ওয়াশিংটন তাদের মিত্রদের কাছে একটি নতুন বহুজাতিক নৌ জোট ‘ম্যারিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট (এমএফসি)’ গঠনের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এর লক্ষ্য হলো যুদ্ধ–পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকাঠামো নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে হরমুজ আবার উন্মুক্ত করা। নিষেধাজ্ঞা ও শক্তি প্রয়োগের পথ এর আগে বাহরাইনের আনা একটি প্রস্তাব রাশিয়া ও চীনের আপত্তিতে ভেস্তে গিয়েছিল। নতুন খসড়াটি অনেক বেশি সতর্কতার সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে। এতে সরাসরি শক্তি প্রয়োগের কথা বলা না হলেও এটি জাতিসংঘের সনদের ‘অধ্যায় ৭’-এর অধীন আনা হয়েছে, যা নিরাপত্তা পরিষদকে নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেয়।