চব্বিশের অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রতিহিংসার বৃত্ত থেকে বের করে আনার বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। অভ্যুত্থানের ঠিক দুই দিন পর ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলি।’ এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বারবার করে দেশকে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বের করে আনার কথা বলেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দলটির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পেছনে নিঃসন্দেহে এটি একটি কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
উত্তরাধিকারসূত্রেই নতুন সরকার একটি ভেঙে পড়া অর্থনীতি এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা পেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল শাসন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এ সময়ে মব সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ ছিল সবচেয়ে বেশি। সমাজের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ শিথিল থাকায় প্রায় সব ধরনের অপরাধ বেড়েছিল।
এ রকম একটি বাস্তবতায় অপরাধীদের সবচেয়ে সহজ লক্ষ্যবস্তু নারী ও শিশু তা পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের মতো অপরাধে মামলা বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। টার্গেট কিলিং বা লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যাকাণ্ডও গত সরকারের শেষ সময়ে এসে ভয়াবহভাবে বেড়ে গিয়েছিল। বিএনপি সরকারের প্রথম মাসে টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা খুব একটা না ঘটলেও নারী ও শিশুদের ওপর নৃশংস অপরাধের ধারা অব্যাহত আছে।