কক্সবাজারের চকরিয়ার ইউএনও-থানার ওসিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের বিরুদ্ধে। রোববার দলীয় এক অনুষ্ঠানে তিনি এ হুমকি দেন। তার বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এনামুল হক বলেন, চকরিয়া থানা সবকিছু দেবে না, সবকিছু আমাদের আদায় করতে হবে। আমাদেরটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমাদেরটা কয়লামন্ত্রী না, পানিমন্ত্রী না। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছি।
তিনি বলেন, ‘ও ওসি তুই যদি আর হতা ন হনুস রাতিয়া গাট্টি গোল গরা পরিবো।’ অর্থাৎ ওসি, তুই যদি আমার কথা না শুনিস কাপড়চোপড় বেঁধে রাখতে হবে। তিনি বলেন, একইভাবে ইউএনও অফিসের কোনো কর্মকর্তা যদি আমাদের কথা না শোনে, তাহলে রাতে গাট্টি (কাপড়চোপড়) বেঁধে রাখার চেষ্টা করো।
এনামুল হক বলেন, আরও বড় বড় কর্মকর্তা যারা আছে, আলটিমেটাম দেবেন, এই কাজটা করে দিবি। ১৫ দিন সময় দেবেন। এর ভেতর যদি না করিস, মসজিদ থেকে খাটিয়া আনব, তোকে ওখানে শোয়াব। তারপর হয় আমিরাবাদ, না হয় কক্সবাজার পাঠিয়ে দেব। তোর আর থাকতে হবে না। এই হচ্ছে আমাদের করণীয়।
এ সময় অবৈধভাবে মাছের ঘেরে না যাওয়ার জন্য সবাইকে নিষেধ করেন বিএনপির এ নেতা। তবে, বৈধভাবে সবাইকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
রোববার রাতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আজিজনগর চেয়ারম্যান লেকের পিকনিক প্রোগ্রামে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুদ্দীন ফরায়েজি, পৌরসভা বিএনপির সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন, নুরুল আমিন কাউন্সিলর, বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন, আবুল হাসেমসহ চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক যুগান্তরকে বলেন, আমাদের এলাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা। জনগণই তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছেন। তাই কোনো বৈধ কাজ যদি তারা করে না দেন, তাহলে ইউএনও-ওসির এমন পরিণতির কথা বলেছি।
জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি এক বক্তব্যে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, আমাদের কিছুদিনের জন্য লোভ সামলাতে হবে। আমরা কিছুদিন দখলবাজি, চাঁদাবাজি, বালুমহল দখল করব না। এ প্রঙ্গে এনামুল হক বলেন, আমি কিছুদিনের জন্য নয়, সারা জীবনের জন্য চাঁদাবাজি-দখলবাজির বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি ও থাকব।