সমুদ্রবন্দরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় গত ২২ জুলাই থেকে ইউক্রেনের রফতানি আয় প্রায় ১৭৫ কোটি ডলার কমেছে বলে দাবি করা হয়েছে। রুশ বার্তা সংস্থা তাসের হিসাবের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের তিন বৃহৎ বাণিজ্যিক বন্দর ওদেসা, চেরনোমর্স্ক ও ইউঝনি বর্তমানে কার্যত অচল। জাহাজ চলাচলের সূচি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ সময়ের মধ্যে বড় কোনো বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এসব বন্দরে প্রবেশ করেনি।

বিকল্প হিসেবে দানিউব নদীর বন্দর, বিশেষ করে ইউক্রেনের ইজমাইল বন্দর এবং মলদোভা হয়ে রোমানিয়ার কনস্টানৎসা বন্দরের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা হলেও তা ওদেসার বন্দরগুলোর সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না। ইউরোপে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দানিউব নদীতে নৌ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রফতানি প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মাসিক হিসাবে এর মূল্য ২০০ কোটি ডলারের বেশি।

এদিকে, প্রতি মাসে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের লৌহ আকরিক ও ধাতু রফতানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এসব পণ্যের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ওদেসা বন্দর দিয়ে পরিবহন করা হতো।
তাস জানিয়েছে, জাহাজ চলাচলের তথ্যের মধ্যে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের হিসাব অন্তর্ভুক্ত নেই। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর কাজে ব্যবহৃত বাল্ক ক্যারিয়ার ও অন্যান্য জাহাজে হামলার দাবি করে আসছে। তবে রফতানি ক্ষতির পরিমাণ ও বন্দর পরিস্থিতি নিয়ে রুশ সূত্রের এসব হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

জাপোরিঝঝিয়ায় রিবালস্কোয়েকে দখলমুক্ত করল রাশিয়া : ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের রিবালস্কোয় গ্রাম দখলমুক্ত করার দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রুশ মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার ‘ইস্ট’ ব্যাটলগ্রুপের অভিযানে গ্রামটির নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইস্ট’ ব্যাটলগ্রুপের ইউনিটগুলোর দৃঢ় অভিযানের ফলে রিবালস্কোয়েতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরক্ষা ভেঙে দেওয়া হয়। এতে রুশ বাহিনী নোভোয়ে পোলের উত্তর-পশ্চিমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ পেয়েছে এবং অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, লড়াইয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি কোম্পানির সমপরিমাণ সেনা হতাহত হয়েছে। এ ছাড়া ৭টি সাঁজোয়া যুদ্ধযান, ১০টি যানবাহন, ১৩টি স্থল রোবোটিক ব্যবস্থা এবং ২০টির বেশি আর-১৮ ভারী হেক্সাকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রিবালস্কোয়েতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রুশ বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। তবে রুশ বাহিনীর এই দাবির বিষয়ে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
জুলাই থেকে ইউক্রেনের ১৩০টির বেশি জাহাজে রুশ হামলার দাবি : জুলাই থেকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর কাজে ব্যবহৃত ১৩০টির বেশি নৌযানে হামলা চালানোর দাবি করেছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে রুশ বার্তা সংস্থা তাস এ হিসাব প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষ্ণসাগর ও ইউক্রেনের বিভিন্ন বন্দরে এসব হামলা চালানো হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বাল্ক ক্যারিয়ার, টহল নৌকা ও টাগবোট ছিল।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই কৃষ্ণসাগর ও ইউক্রেনের বন্দরে ৮০টির বেশি নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে।

১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত রুশ বাহিনী ৩৪টি নৌযানে হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৩১টি বাল্ক ক্যারিয়ার ও তিনটি টাগবোট।
অন্যদিকে, ৮ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত আরও ১৬টি নৌযান হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। এসবের মধ্যে ছিল একটি ট্যাংকার, সাতটি বাল্ক ক্যারিয়ার, দুটি টাগবোট ও ছয়টি টহল নৌকা।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, এসব নৌযান ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির এসব তথ্য রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। সূত্র : তাস।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews