বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন, এক বছরও হয়নি। এরই মধ্যে শন টেইট নাহিদ রানাদের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চাইছেন। জাতীয় দলের এই চাকরি ছেড়ে তিনি ভারতের রাজ্য দলের কোচ হতে চাইছেন, জানাচ্ছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম।
দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানাচ্ছে, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (ক্যাব) এর কাছে ইতোমধ্যেই তিনি সাক্ষাৎকারও দিয়ে বসেছেন। সেই সাক্ষাৎকারের প্যানেলে সদস্য হিসেবে ছিলেন অরুণ লাল, দেবাং গান্ধী ও কল্যাণ চৌধুরী।
এই প্যানেল কোচ হিসেবে টেইটকে সুপারিশও করেছিল। সঙ্গে ভারতের সাবেক নির্বাচক সুরেন্দ্র ভাবেকেও নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে এরপরই টেইটকে দলে নেওয়া নিয়ে তারা দ্বিধায় পড়ে গেছে ক্যাব।
বেঙ্গলের বর্তমান কোচ লক্ষ্মী রতন শুক্লার সময় শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বাধীন ক্যাব ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চেয়েছে। তাই বুধবার শুক্লাকেই আবার প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্লার তত্ত্বাবধানে রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার পারফরম্যান্স মন্দ ছিল না। ২০২২-২৩ মৌসুমে তার প্রথম বছরেই বাংলা রানার্সআপ হয়। আগের আসরে সেমিফাইনালেও উঠেছিল তারা। তবে বড় মঞ্চে বাংলা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
বাংলাদেশে টেইট দারুণ কাজ করেছেন। তরুণ পেসার নাহিদ রানাকে তৈরি করতে তার অবদান সবচেয়ে বেশি। নাহিদ রানা সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে তার চুক্তি আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তবে এর প্রায় দেড় বছর আগেই তিনি চাকরি ছাড়তে চাইছেন। তার কারণ হিসেবে টেলিগ্রাফ জানাচ্ছে, টেইট কোচিং স্টাফের এক বা দুইজনের সঙ্গে ‘একমত নন’, তাদেরকে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভেতরের একটি সূত্র। আর সে কারণেই ক্যাব ও তার মধ্যে আলোচনা এখনো চলছে।
ক্যাবের একটি সূত্র বলেছে, ‘টেইটকে রাজ্যের পেস বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগের সম্ভাবনা এখনো উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই দায়িত্বে সব বয়সের দলের দেখভাল করতে হবে।’
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ‘এখন টেইটের মতো একজনকে দলে আনতে সংস্থাকে অনেক খরচ করতে হবে। এতে ২ কোটি রুপি বা তারও বেশি লাগতে পারে।’ এই বিশাল খরচই ক্যাবকে দ্বিধায় ফেলেছে।