ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্ঘাতের জেরে সৃষ্ট জ্বালানি সঙ্কটের অযুহাতে সারাদেশের শিক্ষাকার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংসদ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের জাবি সংসদের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অদ্রি অংকুর বলেন, দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হতে পারে। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। অতীতে করোনাকালীন সময়ে দেশে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রমে জটিলতা লক্ষ্য করা গেছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ শিশু-কিশোর পায়ে হেঁটে স্কুল-কলেজে যায়। সেখানকার মানুষরাও তাই করে। এতে করে জ্বালানি তেলের বেশি ব্যবহার হয় না। কিন্তু সেই গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা কেন অনলাইনভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রমে নিজেদের পড়াশোনার ক্ষতি সাধন করবে?
তিনি আরো বলেন, দেখতে পাচ্ছি জ্বালানি তেলের সঙ্কটে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে একদিকে যেমন সরকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে তারা গ্রামাঞ্চলের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাকার্যক্রম ধ্বংসের পরিকল্পনা করছে। আমরা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।
জাবি ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইমরান হোসেন শুভ বলেন, বিশ্বব্যাপী সঙ্কটের প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে, এমনকি অল্প দিনের মজুদ থাকার আশঙ্কাও রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে সংসদে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। এর বদলে অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ এটি অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য কার্যকর নয়।
তিনি আরো বলেন, দেশের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রমের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। সেইসাথে আমরা জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান অর্ক, সংগঠক আনিকা তাবাসসুম ফারাবী, সিয়াম মাহমুদ প্রমুখ।