বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক সাক্ষ্য শুধু ট্রফি ক্যাবিনেটে কিংবা ইতিহাসের পাতাতেই জমা থাকে না, তা সগৌরবে বহন করে দলের জার্সিও। কোনো দেশ বিশ্বমঞ্চে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলে জার্সিতে একটি নতুন স্টার যোগ হওয়ার পাশাপাশি বুকের মাঝে জায়গা করে নেয় ঐতিহাসিক ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন্স ব্যাজ’। যার প্রতিটি সেলাই বহন করে ফুটবলের সর্বোচ্চ গৌরব।
২০২২ সালের বিশ্বকাপে জয় লাভ করে সেই সোনালি ব্যাজ এতদিন শোভা পাচ্ছিল আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখতে না পারায় সেই ব্যাজ ধারণের অধিকার হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। এখন সেটি ব্যবহারের একচ্ছত্র মালিক এখন স্পেন।
ফিফার রুল বুক বিজয়ী ব্যাজ সম্পর্কে কী বলে?
ফিফার ইকুইপমেন্ট রেগুলেশনস ও ফুটবলের প্রধান নিয়ম নির্ধারক সংস্থা আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) রুল বুকে এই নিয়ে স্পষ্ট করা হয়েছে।
ফিফা ইকুইপমেন্ট রেগুলেশনস অনুযায়ী, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল কেবল পরবর্তী বিশ্বকাপ ফাইনালে নতুন চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অফিসিয়াল প্লেয়িং কিটে এই ব্যাজ ব্যবহার করতে পারবে। তবে অনুশীলন বা অন্য ক্যাজুয়াল পোশাকে এই ব্যাজ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আর আইএফএবি ল-৪.৫-এর নিয়ম অনুযায়ী, ফিফা বা কনফেডারেশন কর্তৃক অনুমোদিত অফিশিয়াল টুর্নামেন্ট জয়ের স্মারক বা ব্যাজ সম্পূর্ণ আইনি ও বৈধ। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী আসরের ফাইনাল বাঁশি বা নতুন চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হওয়া পর্যন্ত দলটি এই ব্যাজ পরতে পারবে। নতুন চ্যাম্পিয়ন আসার সাথে সাথে আগের দলের এই আইনি অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
চ্যাম্পিয়ন ব্যাজটি জার্সির সামনের অংশ বা বুকের ঠিক মাঝখানে রাখতে হবে। ইকুইপমেন্ট রেগুলেশনস অনুযায়ী ব্যাজের আয়তন সর্বোচ্চ ৭৮.৫ বর্গসেন্টিমিটার বা নির্দিষ্ট পরিমাপের মধ্যে হতে হবে।
তবে সম্পূর্ণ ব্যাজবিহীন থাকবে না আর্জেন্টিনা। এখন থেকে তারা ২০২৪ কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অর্জিত বিশেষ ব্যাজটি জার্সিতে ব্যবহার করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টের ফাইনালে কলম্বিয়াকে হারিয়ে লাউতারো মার্তিনেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলে শিরোপা জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা।