২০০৬ সালের সেই জার্মান গ্রীষ্মে ইউরোপের আকাশের রঙ ছিল অদ্ভুত ধূসর। বার্লিনে পৌঁছানোর দিন বিমানের জানালা দিয়ে নিচে তাকিয়ে মনে হয়েছিল, গোটা মহাদেশ যেন নিজের বুকের ভেতর কিছু লুকিয়ে রেখেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দীর্ঘ ছায়া, বিভক্ত জার্মানির স্মৃতি, বার্লিন প্রাচীরের অদৃশ্য ক্ষত — সবকিছু যেন এখনও শহরের বাতাসে মিশে আছে। আর সেই ইতিহাসের বুকের ওপর দাঁড়িয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসব।

আমি যুগান্তরের প্রতিনিধি হিসেবে পৌঁছেছিলাম জার্মানিতে। হাতে প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন, কাঁধে ব্যাগ, পকেটে নোটবুক, আর বুকভরা এক অদ্ভুত কাঁপুনি। বিমানবন্দর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল বিশ্বকাপের আবাহন।

ফ্রাংকফুর্ট শহর তখন রঙের মিছিল। রেলস্টেশনজুড়ে পতাকা, রাস্তায় রাস্তায় গান, পাবগুলোতে টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ। ব্রাজিলের সমর্থকেরা সাম্বা বাজাচ্ছেন, আর্জেন্টিনার ভক্তরা গলা ফাটিয়ে গান গাইছে, ইতালিয়ানরা নীল পতাকা জড়িয়ে হাঁটছে। জার্মানদের চোখে ছিল অন্যরকম উন্মাদনা। মনে হচ্ছিল, তারা শুধু বিশ্বকাপ আয়োজন করছে না, তারা নিজেদের নতুনভাবে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরতে চাইছে।

আমরা তখন চৌদ্দজন বাংলাদেশি ক্রীড়া সাংবাদিক। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুটবল মহাযজ্ঞ কভার করতে উড়ে গিয়েছিলাম জার্মানিতে। আজ এত বছর পর দাঁড়িয়ে মনে হয়, সেটি কেবল একটি বিদেশ সফর ছিল না; ছিল জীবনের বুকের ভেতর গেঁথে থাকা এক বিশাল উপাখ্যান। এমন এক গ্রীষ্ম, যার প্রতিটি রাতের আলাদা গন্ধ ছিল, প্রতিটি শহরের আলাদা শব্দ ছিল, প্রতিটি মানুষের চোখে ছিল ফুটবল নামের এক অদ্ভুত আগুন।

ফ্রাংকফুর্টের শরীয়তপুরের হোসেন কামাল খসরু ভাই, স্টুটগার্টের মাসুদ মামা, মিউনিখে কাফি কামালদের কথা মনে পড়লেই এখনও বুকের ভেতর হাহাকারমিশ্রিত এক উষ্ণতা জেগে ওঠে। ফ্রাংকফুর্টে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ম্যানেজার তানভীর মাযহার তান্না, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, চাঁদপুরের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, সাবেক ফুটবলার ছাইদ হাসান কানন, বাড্ডা জাগরণীর আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স, ইনকিলাবের সাংবাদিক রেজাউর রহমান সোহাগ, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মেট্রোগ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির আহমেদ ভূঁইয়া, আবাহনীর পরিচালক ও সাবেক তারকা ফুটবলার গোলাম রব্বানী হেলাল, টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল মোল্লা, বরিশালের আসাদুজ্জামান খসরু ভাইসহ অন্যদের সঙ্গে মাইন নদীর ধারে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপের উন্মাদনা উপভোগ করার সেই দিনগুলো ছিল জীবনের এক বিরল সৌভাগ্য।

আজ হেলাল ভাই নেই। মনির চাচা নেই। মোল্লা ভাইও হারিয়ে গেছেন সময়ের ওপারে। কিন্তু বিশ্বকাপ এলেই তারা ফিরে আসেন। মনে হয়, মাইন নদীর ধারে এখনও তারা দাঁড়িয়ে আছেন। কারও হাতে কফির কাপ, কারও হাতে সিগারেট, কারও চোখে আলো ঝলমলে ফুটবলের উত্তেজনা। বাতাসে এখনও ভেসে আসে তাদের হাসি।

বিশ্বকাপ শুরুর আগের রাতে আমরা কয়েকজন মাইন নদীর ধারে বসেছিলাম। হালকা বাতাস বইছিল। দূরে নদীর পানিতে শহরের আলো কাঁপছিল। তানভীর মাযহার তান্না ভাই খুব ধীরে বলেছিলেন, 'ফুটবল আসলে মানুষকে এক জায়গায় এনে বসায়।' মনির চাচা হেসে বলেছিলেন, 'বাংলাদেশে যদি এমন পরিবেশ কোনোদিন হতো!'

হেলাল ভাই তখন চুপচাপ নদীর দিকে তাকিয়ে ছিলেন। পরে বলেছিলেন, 'দেখো, বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এই রাতগুলো মনে থাকবে।' আজ বুঝি, তিনি ঠিকই বলেছিলেন।

বার্লিনে পৌঁছে প্রথম যেদিন ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের সামনে দাঁড়াই, মনে হয়েছিল পৃথিবীর সব ভাষা এক জায়গায় এসে মিশেছে। কেউ গান গাইছে, কেউ নাচছে, কেউ মাতাল হয়ে চিৎকার করছে। এক তরুণ জার্মান আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, 'এই বিশ্বকাপ আমাদের বদলে দেবে।' তার চোখে ছিল গর্ব, আবার ভয়ও ছিল। কারণ জার্মানি তখনও নিজের অতীতের সঙ্গে লড়ছিল।

স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকে প্রথম যে অনুভূতিটা হয়েছিল, তা ভাষায় বোঝানো কঠিন। হাজার হাজার মানুষের সম্মিলিত শব্দ শরীরে এসে আঘাত করছিল। গ্যালারির চিৎকার, বাঁশি, ড্রামের তালে তালে পুরো স্টেডিয়াম যেন শ্বাস নিচ্ছে। আমি নোটবুকে লিখেছিলাম — 'এটা শুধু ফুটবল স্টেডিয়াম নয়। এটা মানুষের আবেগের মহাসমুদ্র।'

উদ্বোধনী ম্যাচেই জার্মানি কোস্টারিকাকে ৪-২ গোলে হারাল। ফিলিপ লামের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। মিরোস্লাভ ক্লোসা দুই গোল করলেন, টরস্টেন ফ্রিংস শেষদিকে গোল করে জয় নিশ্চিত করলেন। ম্যাচ শেষে জার্মান সাংবাদিকরা বলছিলেন, 'এটা শুধু জয় নয়, এটা ঘোষণা।' সেই রাতেই বুঝেছিলাম, ক্লিন্সমানের দল ভেতরে ভেতরে ভয়ংকর শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে ব্রাজিল এসেছিল সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে। রোনালদিনহো, কাকা, রোনালদো, আদ্রিয়ানোর নামগুলো উচ্চারণ করলেই মনে হতো সংগীত বাজছে। তাদের অনুশীলনে দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম, বল যেন ঘাসের ওপর গড়িয়ে যাচ্ছে না, নাচছে। একদিন ট্রেনিং সেশনে রোনালদিনহো বল নিয়ে এমন হাসছিলেন, যেন পৃথিবীতে কোনো দুঃখ নেই। পাশে এক সহকারী কোচ বলেছিলেন, 'এই লোকটা বলকে গান শেখায়।'

কিন্তু সেই হাসির আড়ালেও ছিল চাপা উদ্বেগ। রোনালদোর শরীর ভারী হয়ে গিয়েছিল। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল নির্মম। তবু জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৪-১ গোলের জয় দেখে বোঝা গিয়েছিল, সাম্বার জাদু এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

ইতালির ড্রেসিংরুম ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন জগৎ। সেখানে হাসি কম, কথা কম, চোখে বেশি দৃঢ়তা। মার্সেলো লিপ্পি একদিন সংবাদ সম্মেলন শেষে খুব ধীরে বলেছিলেন, 'আমরা সুন্দর ফুটবল খেলতে আসিনি। আমরা কাপ জিততে এসেছি।' ড্রেসিংরুমের করিডরে দাঁড়িয়ে শুনেছিলাম, এক ইতালিয়ান ফুটবলার আরেকজনকে বলছে, 'আজ শুধু ম্যাচ না। আজ যুদ্ধ।'

গ্রুপ পর্ব শুরু হতেই বিশ্বকাপ যেন রঙ বদলাতে শুরু করল। প্রতিটি ম্যাচ আলাদা সিনেমা। আফ্রিকার ঢেউ, লাতিন আমেরিকার আগুন, ইউরোপের শৃঙ্খলা — সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত মহাকাব্য।

আর্জেন্টিনা তখন খেলছিল শিল্পের মতো ফুটবল। হুয়ান রোমান রিকেলমে মাঝমাঠে দাঁড়ালে মনে হতো সময় থেমে গেছে। সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে তাদের ৬-০ গোলের জয়ে কাম্বিয়াসোর সেই দলীয় গোল আজও মনে হলে শরীর কেঁপে ওঠে। চব্বিশ পাসের পর গোল — যেন ফুটবল নয়, এক নিখুঁত সিম্ফনি। এক স্প্যানিশ সাংবাদিক বলেছিল, 'সে দৌড়ায় না, সে সময়কে নিয়ন্ত্রণ করে।'

পর্তুগালও তখন চুপচাপ এগিয়ে আসছিল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তখনও পুরো পৃথিবীর সুপারস্টার হননি, কিন্তু তাঁর দৌড়ের ভেতর ভবিষ্যতের ঝড় দেখা যাচ্ছিল। ডেকো, ফিগো, মানিশের ফুটবলে ছিল কৌশল আর শীতল আগ্রাসন।

ইংল্যান্ডের শিবিরে অন্য আবহ। ডেভিড বেকহামের প্রতিটি অনুশীলনে শত শত ক্যামেরা। ওয়েন রুনিকে নিয়ে ইংলিশ মিডিয়ার উন্মাদনা। কিন্তু মাঠে তারা কখনও পুরোপুরি মুক্ত হতে পারছিল না। যেন প্রত্যাশার ওজন তাদের পা ভারী করে দিচ্ছিল।

নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার পর বিশ্বকাপ হঠাৎ আরও অন্ধকার, আরও নির্মম হয়ে উঠল। বার্লিন থেকে ডর্টমুন্ড, সেখান থেকে হামবুর্গ, আবার মিউনিখ — ট্রেনে, বাসে, কখনও রাতভর জেগে ভ্রমণ করেছি। স্টেশনগুলোতেও ফুটবল ছিল। মানুষ ঘুমাচ্ছে পতাকা গায়ে দিয়ে। কেউ গান গাইছে। কেউ রেডিও কানে নিয়ে কাঁদছে।

জার্মানি যখন সুইডেনকে ২-০ গোলে হারাল, তখন মিউনিখের অলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ভূমিকম্পের মতো কাঁপন উঠেছিল। ক্লোসা আর পোদলস্কির গতি সুইডিশ রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল। ম্যাচ শেষে এক জার্মান সাংবাদিক বলেছিলেন, 'এই দল এখন আর ভয় পায় না।'

আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো ম্যাচ ছিল অন্যরকম উত্তেজনার। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাক্সি রদ্রিগেজের সেই অবিশ্বাস্য ভলি আজও চোখে লেগে আছে। স্টেডিয়াম কয়েক সেকেন্ড নীরব ছিল। তারপর বিস্ফোরণ। এক বৃদ্ধ জার্মান আমার হাত চেপে ধরে বলেছিলেন, 'আমি যুদ্ধ দেখেছি। কিন্তু এমন আনন্দ কখনও দেখিনি।'

সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে জার্মানি ও আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালে। বার্লিনের সেই রাতে আয়ালা গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিলেন। জার্মানরা মরিয়া হয়ে উঠল। শেষদিকে ক্লোসার হেডে সমতা। তারপর পেনাল্টি শুটআউট।

লেহম্যানের হাতে ছোট্ট কাগজ। আর্জেন্টাইন শুটারদের দিক লেখা। কাম্বিয়াসোর শট ঠেকিয়ে তিনি যখন হাত উঁচু করলেন, পুরো স্টেডিয়াম বিস্ফোরিত হলো। মানুষ কাঁদছে, লাফাচ্ছে, পতাকা উড়ছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা মাটিতে বসে পড়েছে। ড্রেসিংরুমে সেই রাতে ছিল নীরব কান্না। কেউ কিছু বলছিল না। শুধু শ্বাসের শব্দ আর চাপা কান্না।

ইতালি তখন ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে তোত্তির পেনাল্টি, ইউক্রেনের বিপক্ষে ৩-০ জয়ে তারা হয়ে উঠছিল ভয়ংকর।

সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ফাবিও গ্রোসো আর আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরোর গোলের পর প্রেস বক্স কেঁপে উঠেছিল। কাগজ উড়ছিল। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ একসঙ্গে জ্বলছিল। এক ইতালিয়ান সাংবাদিক বলেছিলেন, 'আমরা হয়তো সুন্দর নই। কিন্তু আমরা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকি।'

অন্য সেমিফাইনালে ফ্রান্স হারাল পর্তুগালকে। জিদানের পেনাল্টি, মাকেলেলের লড়াই, থুরামের দৃঢ়তায় ফ্রান্স যেন হঠাৎ পুরোনো মহিমা ফিরে পেয়েছিল।

ফাইনাল। বার্লিনের অলিম্পিয়াস্টেডিয়াম। সেই রাতের বাতাস আজও ভুলতে পারিনি। আলো সাদা। ঘাস ভেজা। মানুষের চোখে আগুন। মনে হচ্ছিল, পুরো পৃথিবী এই এক ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে।

ফ্রান্স শুরুতেই এগিয়ে গেল। জিদানের পেনাল্টি ক্রসবারে লেগে ভেতরে ঢুকে গেল। পুরো স্টেডিয়াম এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। তারপর ইতালি ফিরল। মাতেরাজ্জির হেড। সমতা। ম্যাচ চলছিল যেন সময়ের বাইরে।

বিরতির সময় ফ্রান্সের করিডরের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ভেতরে অদ্ভুত নীরবতা। জিদান বসে আছেন মাথা নিচু করে। কেউ উচ্চস্বরে কথা বলছে না। এক সহকারী কোচ খুব নিচু গলায় বলেছিলেন, 'আমরা এখনও বেঁচে আছি।'

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আরও কঠিন হয়ে উঠল। তারপর এলো সেই মুহূর্ত। পুরো স্টেডিয়াম হঠাৎ নিস্তব্ধ। যেন কেউ শব্দ কেড়ে নিয়েছে পৃথিবী থেকে। রেফারি দৌড়ে যাচ্ছেন, খেলোয়াড়রা চিৎকার করছে, আর জিদান ধীরে ধীরে মাঠ ছাড়ছেন। এক সহকর্মী ফিসফিস করে বলেছিল, 'ইতিহাসের শেষ পৃষ্ঠা এটা।'

পেনাল্টি শুটআউটে ইতালি জিতে গেল। পিরলো, মাতেরাজ্জি, দেল পিয়েরো গোল করলেন। ট্রেজেগের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলো। তারপর গ্রোসোর শেষ শট জালে ঢুকতেই ইতালি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। বুফনের চোখে জল। ইতালির উল্লাস। আতশবাজি। সবকিছু লিখতে লিখতে হাত কাঁপছিল।

ইতালির ড্রেসিংরুমে কেউ খুব বেশি চিৎকার করছিল না। কেউ কাঁদছিল। কেউ মেঝেতে বসে মাথা হাতে চেপে রেখেছিল। লিপ্পি ধীরে বলেছিলেন, 'আজ আমরা শুধু বিশ্বকাপ জিতিনি। আমরা নিজেদেরও ফিরে পেয়েছি।'

ফ্রান্সের ড্রেসিংরুম ছিল আরও নীরব। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে শুনছিলাম চেয়ারের শব্দ, কান্না, আর এক ধরনের শূন্যতা। জিদান তখনও ফেরেননি।

পরদিন সন্ধ্যার দিকে আবার মাইন নদীর ধারে গিয়ে দাঁড়াই। নদীর পানিতে আলো কাঁপছিল। হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছিল।

২০০৬ সালের সেই জার্মান গ্রীষ্ম আজও আমার ভেতরে বেঁচে আছে। বার্লিনের গর্জন, স্টেডিয়ামের আলো, জিদানের নীরব বিদায়, ইতালির কান্নামিশ্রিত উল্লাস, আর্জেন্টিনার ভাঙন, ব্রাজিলের অপূর্ণ স্বপ্ন, জার্মানির পুনর্জন্ম, আর মাইন নদীর ধারে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের সেই চৌদ্দজন মানুষের হৃদয়ের ভেতর এখনও অনন্ত এক বিশ্বকাপ হয়ে জ্বলছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews