থালাপতি বিজয় অভিনীত শেষ সিনেমা ‘জন নায়গন’ ইন্টারনেটে ফাঁস বা পাইরেসি করার ঘটনায় তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ‘গুন্ডা আইন’ প্রয়োগ করেছে তামিলনাড়ু পুলিশ। ছবির মূল তারকা তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়ের এই সিনেমাটি মুক্তির আগেই অনলাইনে ফাঁস হওয়া নিয়ে দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তে নেমে তামিলনাড়ু সাইবার ক্রাইম উইং প্রশান্ত, সেলভাম এবং বালকৃষ্ণন নামের তিন অভিযুক্তকে তামিলনাড়ু বিপজ্জনক কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন, ১৯৮২ বা গুন্ডা আইনের অধীনে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নিয়েছে।
এইচ বিনোদ পরিচালিত এবং কেভিএন প্রোডাকশন প্রযোজিত ‘জন নায়গন’ সিনেমাটি নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই দর্শকদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ ছিল। এর মূল কারণ, এটিকে পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে অভিনেতা বিজয়ের শেষ সিনেমা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই উচ্চমানের (এইচডি) সংস্করণ ইন্টারনেটে চলে আসায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো তামিল চলচ্চিত্র শিল্প। চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও প্রযোজক সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে তামিল সিনেমার জন্য এক বড় ধাক্কা বলে অভিহিত করেন। এমনকি সুপারস্টার রজনীকান্তও এই ঘটনার পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এরপরই কেভিএন প্রোডাকশনের পক্ষ থেকে চেন্নাই সাইবার ক্রাইম পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এ পর্যন্ত মোট নয়জনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, ধৃত ব্যক্তিরা অনলাইনে কপিরাইটযুক্ত চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু অবৈধভাবে সংগ্রহ ও বিতরণের একটি বড় চক্রের সঙ্গে জড়িত। কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন এর আগে অন্য একটি চলচ্চিত্র প্রকল্পে ফ্রিল্যান্স সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছিলেন। ফলে এই চুরির পেছনে কোনো ভেতরের মানুষের হাত বা প্রযুক্তিগত সুবিধা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), তথ্যপ্রযুক্তি আইন, কপিরাইট আইন এবং সিনেমাটোগ্রাফ আইনের একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।
সাধারণত অভ্যাসগত অপরাধী এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কর্মকাণ্ড রুখতে তামিলনাড়ুতে এই বিশেষ ‘গুন্ডা আইন’ ব্যবহার করা হয়। এই আইনের অধীনে পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক বিচার ছাড়াই নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য আটকে রাখতে পারে। পুলিশ সূত্রের খবর, পাইরেসি চক্রের ভয়াবহতা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর এর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনা করেই এই তিন মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এই কঠোর আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: ইটিভি ভারত
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি