অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ওয়ালি পার্কে গাংচিল মিউজিকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের ‘নিরালা হোল্ডিংস বৈশাখী মেলা’।
প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির উপচেপড়া ভিড় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে শনিবার (১১ এপ্রিল) দিনব্যাপী এই আয়োজন রূপ নেয় এক আনন্দ ঘন মিলনমেলায়।
প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির বর্ণিল উৎসব নাহিদা, নুশরাত ও মিরাজের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ওয়ালি পার্ক বৈশাখী মেলার প্রাণ পুরুষ টাবু সঞ্জয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বৈশাখী গান ও একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন আরশি। রোখসানার তত্ত্বাবধানে ‘কিশলয়-কচিকাঁচা’ দলের শিশুদের পরিবেশনা ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও দর্শকনন্দিত।
রানা শরীফের তত্ত্বাবধানে মাগরিবের নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থানে দর্শনার্থীরা নামাজ আদায় করেন। নিলুফার ইয়াসমিনের একক সঙ্গীত পরিবেশনা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে। এছাড়া ব্যান্ড ফ্লকের পরিবেশনায় ‘বন্ধু সভা’, শহিদুল আলম বাদলের কবিতা আবৃত্তি, অন্তরা ও রত্নার গান, এবং সামান্থা, করিমা ও রাইমার গ্রুপ ড্যান্স মেলায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
বৈশাখী আয়োজনে স্পন্সরদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে টাবু সঞ্জয় নিরালা হোল্ডিংসের কর্ণধার রানা শরীফ ও স্টার কিডসের পরিচালক খায়রুল ইসলামের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। কুমকুম, মিশা, সুইটি, পারমিতা, আনিশা ও অস্রিতার নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। জনপ্রিয় ‘স্প্ল্যাশ ব্যান্ড’ ও সিডনির ‘ক্রিস্টি ব্যান্ড’-এর প্রাণবন্ত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
ক্যান্টারবেরি-ব্যাংকস্টাউন সিটি কাউন্সিল ও ওমেন কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলার টাইটেল স্পন্সর ছিল নিরালা হোল্ডিংস। এছাড়া অন্যান্য স্পন্সর ছিল Raine & Horne Ingleburn, স্টার কিডস, Bangladesh Travels ও Luminedge ও আফরিনা চৌধুরী স্মৃতি। বৈশাখী বরণের এই উৎসবে অংশ নেন কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
মেলায় ২০টির বেশি পোশাকের দোকান, ১৫টির বেশি দেশীয় খাবারের স্টল এবং শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থা ছিল। প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, বিদেশের মাটিতে এমন বর্ণিল বৈশাখী আয়োজন তাদের শিকড়ের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করে। খাবারের প্রায় প্রতিটি স্টলে ক্রেতাদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার কিনতে দেখা যায়। পোশাক ও খাবারের স্টল মালিকরা তাদের ব্যবসায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, প্রতি বছরই গাংচিল মিউজিক বৈশাখ উপলক্ষে এই মেলার আয়োজন করে থাকে এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। তাদের মতে, এটি অস্ট্রেলিয়াসহ বিদেশের মাটিতে অন্যতম বৃহৎ বৈশাখী আয়োজন।
সব মিলিয়ে, ওয়ালি পার্ক বৈশাখী মেলা ২০২৬ প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য উদযাপনে পরিণত হয়ে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয় আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও উৎসবের আবহ।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল