বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংকট শুধু ডাক্তারদের ব্যর্থতা নয়, এটি একটি সিস্টেমিক সংকট

বাংলাদেশে সদ্য জন্ম নেওয়া একটি শিশু থেকে শুরু করে ৮৩ বছরের একজন বৃদ্ধ পর্যন্ত-আজ কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না যে, তিনি নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা পাবেন। সম্প্রতি একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। একদিকে এক বাবা প্রশ্ন তুলেছেন-কেন তার নবজাতক সন্তানের জন্য সময়মতো NICU care নিশ্চিত করা হলো না? কেন যথাযথ কাউন্সেলিং ছিল না? কেন বিশেষজ্ঞ মতামত এত অস্পষ্ট ছিল? অন্যদিকে একজন চিকিৎসক কন্যা প্রশ্ন তুলেছেন-কেন তার বাবার repeated sepsis সময়মতো শনাক্ত করা গেল না? কেন culture report যথাযথভাবে জানানো হলো না? কেন infection control ব্যবস্থা এত দুর্বল ছিল?

এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ঘটনা নয়। এগুলো বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার গভীর সিস্টেমিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের হাসপাতালগুলো দীর্ঘদিন ধরে ICU I NICU সংকট, সীমিত অবকাঠামো, দুর্বল infection control, জনবল ঘাটতি, communication gap এবং জবাবদিহিতার অভাবে ভুগছে। কিন্তু কোনো adverse outcome ঘটলেই পুরো দোষ গিয়ে পড়ে একজন চিকিৎসকের উপর। বাস্তবতা হলো-ডাক্তার পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি অংশ মাত্র।

একজন চিকিৎসক হাসপাতালের বাজেট নির্ধারণ করেন না। তিনি সিদ্ধান্ত নেন না কত ওঈট বেড থাকবে, কত নার্স নিয়োগ হবে, কত infection control staff থাকবে, বা কত দ্রুত laboratory support পাওয়া যাবে। এসব মূলত প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত। অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসক জানেন রোগীর কী প্রয়োজন, কিন্তু সেই প্রয়োজনীয় resource তার হাতে থাকে না।

একজন critically ill রোগীর outcome শুধুমাত্র treating doctor-এর উপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে জড়িত থাকে trained ICU nurse, infection control team, laboratory support, sterilization system, biomedical maintenance, pharmacy service এবং hospital governance. দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের বহু হাসপাতালে এই সহায়ক কাঠামোগুলো দুর্বল।

স্বাস্থ্যখাতের আরেকটি বড় সমস্যা হলো extreme workload। সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনেক চিকিৎসককে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী দেখতে হয়। ICU I emergency unit-G পর্যাপ্ত staffing না থাকায় মানবিক ভুলের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এটি কোনো ভুল চিকিৎসাকে বৈধতা দেয় না, কিন্তু এটি বোঝায় যে patient safety কখনোই system capacity থেকে আলাদা নয়।

Communication failure-ও এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। বহু রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন যে তাদের যথেষ্টভাবে জানানো হয় না রোগীর অবস্থা, ঝুঁকি, বা চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে। অথচ humane communication চিকিৎসারই অংশ। অন্যদিকে চিকিৎসকরাও আজ ভয়ের মধ্যে কাজ করছেন। রোগীর মৃত্যু বা জটিলতার পর চিকিৎসকদের উপর হামলা এখন উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। অনেক হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই, এবং অধিকাংশ ঘটনায় কার্যকর বিচারও হয় না। এতে ডাক্তার-রোগী সম্পর্কের বিশ্বাস ধ্বংস হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো-স্বচ্ছ জবাবদিহিতার অভাব।

কোনো adverse event ঘটলে structured investigation খুব কম হয়। Mortality review, infection audit, বা root-cause analysis অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। ফলে system failure আড়ালে থেকে যায়, আর সমস্ত দোষ ব্যক্তিগতভাবে একজন চিকিৎসকের ঘাড়ে চাপানো হয়। একটি আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা blame culture-এর উপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।

বাংলাদেশে জরুরি ভিত্তিতে যেসব সংস্কার প্রয়োজন- শক্তিশালী blame culture, বাধ্যতামূলক infection control audit, ICU I NICU accreditation system, Independent mortality review, Doctor-patient communication training, Nursing workforce বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়ন, Hospital-acquired infection surveillance, Transparent complaint investigation system, Healthcare worker protection law সরকারি স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-বাংলাদেশকে ‘blame culture’ থেকে ‘safety culture’-এ যেতে হবে।

সব ডাক্তার খারাপ নন। আবার সব অভিযোগও মিথ্যা নয়। ’Patient safety এবং doctor safety -দুটোই একসাথে নিশ্চিত করতে হবে। কারণ একজন চিকিৎসক যদি একটি unsafe system -এর মধ্যে কাজ করেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত রোগীও ঁহংধভব হয়ে পড়েন। একটি সভ্যরাষ্ট্রে চিকিৎসা কখনো ‘আল্লাহ ভরসা’ নির্ভর হতে পারে না। নিরাপদ, মানবিক এবং জবাবদিহিমূলক চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার।

লেখক: রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, সেইন্ট জন রিজিওনাল হসপিটাল, নিউ ব্রæান্সউইক। এসিস্টেন্ট প্রফেসর, ডালহাউসী ইউনিভার্সিটি, কানাডা।

পূর্বকোণ/ইবনুর



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews