ভূমিসেবায় দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।
গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও রাজস্ব সার্কেল পর্যায়েও একযোগে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, আইন ও বিচারমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ সংসদ সদস্য ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা ছিল। মামলা-মোকদ্দমা, দালালচক্র, দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতির কারণে গ্রামের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতেন। বর্তমান সরকার সে পরিস্থিতি পরিবর্তন করে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এবারের ভূমিসেবা মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা : সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ।’ আগামীকাল পর্যন্ত মেলা চলবে। সরকার আশা করছে, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রদান জনগণের প্রতি করুণা নয় বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশের টেকসই উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
তিনি বলেন, আজ থেকে হয়তো ১০০ বছর আগে, যে জমির মালিক ছিলেন মাত্র একজন। সময়ের পরিক্রমায় বর্তমানে সেই জমির মালিক হয়তো ১০০ কিংবা তারও বেশি। এভাবে ভূমির মালিকানা-শরিকানা যেমন বেড়েছে স্বাভাবিকভাবেই জমির মালিকানা-সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়াকে রেকর্ডে রাখার জন্য ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্বও তেমন বেড়েছে।
তিনি বলেন, মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা, সি-এস, আর-এস বা বি-এস এই শব্দগুলোর সঙ্গে জমির মালিক মাত্রই কমবেশি পরিচিত। ফলে এসব বিষয়ে নিজেদের মালিকানা হালনাগাদ রাখতে মানুষকে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আসতে হতো। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ভূমি ব্যবস্থাপনাও আধুনিক হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব হাসন শিপলু জানান, বৈঠকে গুলশান লেকের পানিদূষণ রোধ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, সৌন্দর্যবর্ধন এবং লেককেন্দ্রিক নাগরিক সুবিধা বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা লেকের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে টেকসই উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সত্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব ও ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সাংবাদিকদের ঈদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড পাঠানো হয়। কার্ডে লেখা রয়েছে- ‘হীনতা, দীনতা, অহংকার ও স্বার্থপরতা পরিত্যাগ করে সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধনে ত্যাগ ও পারস্পরিক সহমর্মিতায় গড়ে উঠুক আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ। সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা।’