১১–দলীয় ঐক্যের সূত্র বলছে, জামায়াত অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার বিষয়ে বেশি আগ্রহী ছিল। অলি আহমদও রাজি। এনসিপিসহ অন্য দলগুলো সেভাবে দ্বিমত করেনি।
সর্বশেষ ১৯৯১ সালে এই পদে ভোট হয়েছিল। জয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস। এবার বিএনপির সংসদ সদস্য সংখ্যা ১৯৯১ সালের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে দলটির মনোনীত প্রার্থীই জয়ী হবেন, এ বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার। বিরোধী দলগুলোর নেতাদের কাছেও এই হিসাব পরিষ্কার। এরপরও অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার পেছনে জোট এবং জোট–বহির্ভূত রাজনীতির কথা বলছেন ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা।
জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য বারবার অভিযুক্ত হয়ে আসছে। অন্যদিকে অলি আহমদ রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। যেকোনো সুযোগে অলি আহমদকে সামনে রাখার চেষ্টা আছে জামায়াতের। এ জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের ১১–দলীয় ঐক্যে অলি আহমদকে রাখতে তৎপর ছিল জামায়াত। কারণ, এতে একদিকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রেখে একাত্তরের সমালোচনার কিছুটা জবাব দেওয়া।
জামায়াত ও এনসিপি সূত্র জানায়, ১১–দলীয় ঐক্য সরকার গঠন করতে পারলে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি করতে হবে—এলডিপি থেকে এমন একধরনের চাওয়া ছিল। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার কথা চিন্তা করে জামায়াতও এ বিষয়ে তখন আশ্বাস দিয়েছিল। এখন রাষ্ট্রপতি পদে পরাজয়ের আশঙ্কা জেনেও জামায়াত তাদের পুরোনো প্রতিশ্রুতি পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ১১–দলীয় ঐক্য সক্রিয়—এটাও দেখাতে চেয়েছে।