সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোলপূর্ণিমা। এ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে দোল উৎসব।
শহরের সবুজবাগ আবাসিক এলাকায় ‘সবুজবাগ দোল পূজা উদযাপন পরিষদ’র আয়োজনে দুপুরে রঙভর্তি কলস ভাঙার মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সূচনা হয়। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানেও চা-জনগোষ্ঠীর মানুষ দোল উৎসব উদযাপন করেন। চা বাগানগুলোতে এ উৎসব ‘ফাগুয়া’ নামে পরিচিত।
সবুজবাগ ও ভুরভুড়িয়া চা বাগান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই উৎসব প্রাঙ্গণে মানুষজন আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকসমাগমও বাড়তে থাকে। উৎসবকে ঘিরে বসে বিভিন্ন দোকান। নানা রঙের আবির ও উৎসব সামগ্রী সাজিয়ে বসেন দোকানিরা।
উৎসবে হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন। তারা নেচে-গেয়ে আনন্দ উপভোগ করেন এবং একে অপরকে রঙ মাখিয়ে শুভেচ্ছা জানান। লাল, নীল, সবুজ, বেগুনি, হলুদ ও গোলাপি রঙে রঙিন হয়ে ওঠে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্করাও।
দোল উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শুভেচ্ছা জানান মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
দিনব্যাপী এ উৎসবে রঙ খেলা ছাড়াও ছিল নগর সংকীর্তন, ধামাইল, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মূলত দোল বা হোলি উৎসবের মাধ্যমে মানুষ অতীতের ভুল-ত্রুটি ভুলে গিয়ে পরস্পরের সঙ্গে মিলেমিশে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলে। ক্ষমা, সম্প্রীতি ও আনন্দের বার্তা বহন করায় দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ কারণে দোল উৎসবকে ঘিরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যায়।
উৎসবে অংশ নেয়া শ্রাবণী তালুকদার বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও এসেছি। সবাই মিলে রঙ খেলছি, নাচ-গান আর আনন্দে সময় কাটাচ্ছি। খুবই ভালো লাগছে।’
সবুজবাগ দোল পূজা উদযাপন পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক পিয়াস দাশ বলেন, ‘এ বছর ষষ্ঠবারের মতো আমাদের এ আয়োজন। দোল উৎসব সবাইকে একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক সুন্দর মেলবন্ধন তৈরি করে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।’
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল