বগুড়ায় ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুল আলীম (৪২) নামের মাদ্রাসাশিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে গণপিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে মহানগরের মালগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিশুটি অভিযুক্ত আব্দুল আলীমের মাদ্রাসারই তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার ১২টায় মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর পরিবারের কেউ শিশুটিকে নিতে আসেনি। এই সুযোগে শিক্ষক আব্দুল আলীম তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যান। পথিমধ্যে শিশুটিকে একটি গলির ভেতর নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তিনি। পরবর্তীতে আলীম শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখান। শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার কথা জানাজানি হলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ওই শিক্ষকের বাড়িতে চড়াও হয় এবং জানালার কাচ ভাঙচুর করে। বিকেলে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত আব্দুল আলীমকে গণপিটুনি দিয়ে তার বাড়িতে আটকে রাখে এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ সদস্যদের নিকট থেকে অভিযুক্ত ইমামকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি