ইরান-ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দখলকৃত দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত অতিক্রম করে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র পরিদর্শন করেছেন। ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর এটি তার প্রথম এমন সফর, যা সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।
রোববার দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে রণকৌশল বৈঠকে অংশ নেন নেতানিয়াহু। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, লেবানন থেকে আক্রমণের হুমকি ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিহত করেছে। তবে যুদ্ধ এখনও চলছে এবং আরও কাজ বাকি রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংঘাত শুধু সামরিক নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক লড়াইয়ের অংশ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই সফরের তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নেতানিয়াহু সেনাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির। তাদের উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে, সফরটি ছিল অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের এবং সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ ‘সিলভার প্লাউ’ নামে একটি বিশেষ অভিযানের ঘোষণা দেন। এই অভিযানের আওতায় লিটানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার সকল ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, লিটানি নদীর দক্ষিণ তীরের সব বাসিন্দাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উত্তর ইসরায়েলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, নেতানিয়াহুর এই সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র পরিদর্শন শুধু সেনাদের মনোবল বাড়ানোর জন্য নয়, বরং ইরান ও তাদের মিত্রদের উদ্দেশ্যে একটি দৃঢ় বার্তা।
এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ইসরায়েল সংঘাতে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে প্রস্তুত।