ঈদ মানেই আনন্দ, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো আর নানা রকম মুখরোচক খাবারের সমাহার। কোরমা, বিরিয়ানি, সেমাই, মিষ্টি সব মিলিয়ে কয়েকদিন ধরেই চলে খাওয়াদাওয়ার উৎসব। কিন্তু এই অতিরিক্ত ও ভারী খাবারের ফলেই ঈদের পর অনেকেই ভুগে থাকেন গ্যাস, অম্বল ও বদহজমের সমস্যায়। তাই উৎসবের আনন্দ যেন শারীরিক অস্বস্তিতে ম্লান না হয়ে যায়, সেজন্য কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
ঈদের সময় সবচেয়ে বড় ভুলটি আমরা করি অতিরিক্ত খাওয়া। একসঙ্গে অনেক বেশি বা ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা হওয়াই স্বাভাবিক। তাই চেষ্টা করুন অল্প অল্প করে বারবার খেতে। এতে করে পেটের ওপর চাপ কম পড়ে এবং হজম প্রক্রিয়াও সহজ হয়।
খাবার হজমে পানির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের পর শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং গ্যাসের সমস্যাও কমায়। তবে খাওয়ার ঠিক পরপরই বেশি পানি না খেয়ে কিছুটা সময় নিয়ে পান করা ভালো।
ঈদের ভারী খাবারের পরপরই আবার তেল-চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন। পরিবর্তে ভাত, ডাল, সবজি, সালাদ বা স্যুপের মতো হালকা খাবার খান। এতে পেট আরাম পায় এবং হজমশক্তি স্বাভাবিক হতে সময় পায়।
খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে, যা হজমের জন্য ক্ষতিকর। এর পরিবর্তে খাবারের পর অন্তত ১৫-২০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করুন। এতে হজম প্রক্রিয়া দ্রুত হয় এবং গ্যাস জমার সম্ভাবনা কমে।
গ্যাস বা বদহজম হলে ঘরোয়া কিছু উপায় বেশ কার্যকর হতে পারে। যেমন-গরম পানি, আদা চা, জিরা ভেজানো পানি বা লেবু-গরম পানির মিশ্রণ হজমে সহায়ক। এসব প্রাকৃতিক উপাদান পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।
ঈদের ছুটিতে অনেক সময় আমাদের খাওয়ার সময়সূচি এলোমেলো হয়ে যায়। কখনো খুব দেরিতে খাওয়া, আবার কখনো দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা এসব অভ্যাস হজমের সমস্যা বাড়ায়। তাই নির্দিষ্ট সময় মেনে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
শুধু খাবার নয়, হজমশক্তি ভালো রাখতে ঘুমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যার প্রভাব পড়ে হজমেও। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
যদি গ্যাস, অম্বল বা বদহজমের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে বা তীব্র হয়, তাহলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
ঈদের আনন্দ যেন শরীরের অস্বস্তিতে ম্লান না হয়ে যায়, সেজন্য একটু সচেতন থাকাই যথেষ্ট। খাবারে সংযম, সঠিক অভ্যাস এবং হালকা জীবনযাপন এই তিনটি বিষয় মেনে চললে খুব সহজেই দূরে রাখা যায় গ্যাস ও বদহজমের মতো সমস্যাগুলো। তাই উৎসবের পরও সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।
তথ্যসূত্র: মেডিক্যাল নিউজ টুডে, এনডিটিভি ফুড
জেএস/