স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান পোশাকে পুলিশ বাহিনী সন্তুষ্ট নয়। সুতরাং, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী যেন আগের ঐতিহ্যমণ্ডিত কোনো একটি পোশাক ফিরে পায়, সে বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ মহলে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গতকাল রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন সবার প্রতি সমান উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশ এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের এই রূপান্তরকালে আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। নিজেদের এর উপযোগী করে তুলতে হবে। সততা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশের আচরণ হতে হবে মানবিক এবং আইনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। মনে রাখতে হবে, চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্বই একটি বাহিনীর মূল শক্তি। আপনারা সমাজে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সৈনিক। আপনার আইনের প্রতি অবিচল আস্থা ও দেশের নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ব ও জবাবদিহিই হবে আপনাদের কর্মের মূল ভিত্তি। মনে রাখবেন আইনের চোখে সবাই সমান, সেটি হোক কোনো রাজনৈতিক কর্মী বা প্রান্তিক কৃষক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের স্বস্তি প্রদান করা ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সময়ের ভঙ্গুর অবস্থা থেকে ক্রমান্বয়ে পুলিশ আজকের এ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে পুলিশ কোনো বিশেষ দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়, বরং পুলিশ হবে জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে আমরা দ্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাব মুক্ত করে একটি আধুনিক সেবাধর্মী ও মানবিক সংস্থায় রূপান্তর করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সেজন্য পুলিশ বাহিনীর মনোবল পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ একটি দক্ষ ও আধুনিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ইতোমধ্যে জনবল বৃদ্ধিসহ নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে তার অন্যতম স্তম্ভ হলো পুলিশ সংস্কার।
আমরা দায়িত্বে আসার পর থেকেই একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়ে কাজ করছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কমিশনের উদ্দেশ্য হলো পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা। নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। ব্রিটিশ আমলের সেকেলে পুলিশ আইন পরিবর্তন করে সময় উপযোগী এবং জনবান্ধব আইন প্রণয়ন। আমরা চাই এমন এক পুলিশ বাহিনী যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করবে না।
তিনি বলেন, জনগণের সেবক হন। সাধারণ মানুষ যখন থানায় আসে, তারা যেন আপনাদের মধ্যে সেবার মানসিকতা দেখতে পায়। বর্তমান আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল অপরাধ দমনে আপনাদের সর্বোচ্চ কারিগরি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। সাইবার নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আধুনিক অপরাধ তদন্তে আপনাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। দুর্নীতির করাল গ্রাস যেন আপনাদের স্পর্শ করতে না পারে সেদিকে সদা সতর্ক থাকবেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ মার্চ শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণে মোট ৮০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন ৭২ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে নারী ক্যাডার ছয়জন এবং পুরুষ ক্যাডার ৬৬ জন। প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের আইজিপিসহ বিভিন্ন আসনের এমপি এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।