বিএনপি বলেছিল, সরকার গঠন করতে পারলে সংখ্যালঘুরা ভালো থাকবে; কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তারা অনেকটাই উদাসীন হয়ে গেছে-বলেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্রকে গত রোববার রাতে নিজের এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরপর সিআইডির পক্ষ থেকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় তার বিরুদ্ধে করা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশে নির্মল রোজারিও এ কথা বলেন। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশের আয়োজন করে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সমাবেশ থেকে হরিদাস চন্দ্রের মুক্তি দাবি করা হয়।
সমাবেশে ঐক্য পরিষদের নেতারা রামমূর্তিসহ শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির নির্মাণে সরকারকে সহযোগিতা করার দাবি জানান। এ সময় বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি পুরানা পল্টন মোড় হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নির্মল রোজারিও বলেন, মন্দির নির্মাণ ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ। প্রতিটি ধর্মের তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, রক্ষা ও সংরক্ষণ করার অধিকার রয়েছে।
ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, মন্দির নির্মাণের জন্য হরিদাসকে দায়ী করা হয়েছে। হরিদাস মন্দিরে ৮০ ফুট মূর্তি নির্মাণ করবে নাকি ১০০ ফুট করবে বা ১৫০ ফুট করবে সেটা তার ব্যাপার। এটার কিন্তু কোনো লিমিট নাই যে এর থেকে বেশি করা যাবে না। বিএনপি সরকারের কোনো কর্মকা-ে অসাম্প্রদায়িক চেতনা লক্ষ করা যাচ্ছে না।
মিছিলপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিম-লীর সদস্য সুব্রত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হেমন্ত আই কোরাইয়া, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি অতুল ম-ল প্রমুখ।