ভারত, ১০ ফেব্রুয়ারি – ভেষজ উদ্ভিদের তালিকায় নিমের অবস্থান একেবারে ওপরের সারিতে। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ নানা প্রয়োজনে নিমের ব্যবহার করে আসছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতসহ ক্রান্তীয় অঞ্চলগুলোতে এই গাছ প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। নিম গাছের পাতা, কান্ড, বাকল, ফল ও মূল—প্রতিটি অংশেরই ভেষজ গুণ রয়েছে। তবে ব্যবহারিক দিক থেকে নিম পাতার কদর সবচেয়ে বেশি।

ত্বকের পরিচর্যা, সৌন্দর্য রক্ষা এবং সর্দি-কাশি, জ্বর, সংক্রমণ, কিডনি ও লিভারের সমস্যায় এটি অত্যন্ত কার্যকরী। রূপচর্চায় নিম পাতার ব্যবহার ও উপকারিতা অপরিসীম। নিম পাতা ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া বিরোধী উপাদান সমৃদ্ধ। ত্বকের সুরক্ষায় এর জুড়ি নেই। মুখে ব্রণের সংক্রমণ দেখা দিলে নিম পাতা থেঁতো করে লাগালে দ্রুত নিরাময় হয়। এছাড়া অনেকের মাথার ত্বকে চুলকানি ভাব হয়। নিয়মিত নিম পাতার রস মাথায় ব্যবহার করলে চুলকানি কমে, চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং রুক্ষতা দূর হয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতেও নিমের ভূমিকা রয়েছে। কাঁচা হলুদের সঙ্গে নিম পাতা বেটে পেস্ট তৈরি করে নিয়মিত ব্যবহার করলে স্কিনটোন সুন্দর হয়। তবে এক্ষেত্রে হলুদের চেয়ে নিম পাতার পরিমাণ বেশি রাখা উচিত এবং ব্যবহারের পর সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা ভালো।

নিমের তেলে প্রচুর ভিটামিন ই এবং ফ্যাটি এসিড থাকে, যা ত্বক ও চুলের পুষ্টি জোগায়। যাদের ত্বকে জ্বালাপোড়া বা চুলকানি রয়েছে, তারা গোসলের পানির সঙ্গে নিম পাতা সেদ্ধ পানি মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে আরাম পাওয়া যায় এবং গায়ের দুর্গন্ধ দূর হয়। এছাড়া ফেসপ্যাক ব্যবহারের সময় সাধারণ পানির বদলে নিম পাতা সেদ্ধ ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। দাঁতের সুরক্ষায় নিমের ডাল বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যা মুখের দুর্গন্ধ ও জীবাণু রোধে কার্যকরী। কাটাছেঁড়া বা পোড়া স্থানেও নিম পাতার রস ওষুধের মতো কাজ করে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য নিম পাতা রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে সংরক্ষণ করা সম্ভব, যা পরবর্তীতে ফেস মাস্ক হিসেবে কাজে লাগানো যায়।

এস এম/ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews