সারা দেশে ভোট চলছে। বহু প্রতীক্ষা, বহু আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই ভোট। বহু বছর পর মানুষ নিজেদের হাতে রাষ্ট্রের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ পেয়েছে। বহু বছর পর সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে ভোটাধিকার। এ ঘটনা নিঃসন্দেহে আনন্দের। এই আনন্দ নিয়ে সকাল সকাল বের হয়েছিলাম ভোট দিতে। ঢাকার প্রায় ৮৫ লাখ ভোটারের মধ্যে আমিও একজন। আনন্দের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে একটা শঙ্কাও সামনে এল। ভোটাধিকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মালিকানা আমরা অর্জন করলাম, কিন্তু এই অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে আমরা সক্ষম হলাম কতটা?
এই শঙ্কার বার্তাবাহক ছিলেন একজন রিকশাচালক। তাঁর নাম হাসিব ইসলাম। হাসিবের রিকশায় চড়ে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলাম। একা রিকশায় চড়লে পুরোনো অভ্যাসবশত রিকশাচালকদের সঙ্গে গল্প করতে করতে গন্তব্যে পৌঁছাই। এতে প্রথমত সময়টা ভালো কাটে। দ্বিতীয়ত, রিকশাচালকদের কথায় দেশ ও জাতি নিয়ে এমন অনেক গল্প উঠে আসে, যা সাংবাদিকতার ফ্রেমে সাধারণত আঁটে না। ক্যামেরার লেন্সে যা সাধারণত ধরা পড়ে না।
হাসিবও এ বিষয়ে হতাশ করেননি। তাঁর বয়স ২৮। বসতভিটা কুড়িগ্রামের উলিপুরে। ঢাকার মিরপুরে স্ত্রী ও তিনি থাকেন। স্ত্রী পোশাকশ্রমিক। তিনি বা তাঁর স্ত্রী ভোট দিতে যেতে পারেননি।
জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ভোট দিতে কেন গেলেন না? হাসিব জানালেন, ঢাকা থেকে ভোট দিতে যাওয়া–আসা চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা খরচের বিষয়। তাঁর পরিবারের এই খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই। ভোট দিতে না যেতে পারা নিয়ে তাঁর ভেতরে আফসোস আছে। কারণ, হাসিবের মতে, এর আগের দুটি নির্বাচনে আরও লাখ লাখ মানুষের মতো তিনিও ভোট দিতে পারেননি।