তানজীমউদ্দিন খান: আমার কাছে এটি সরাসরি কোনো কাঠামোগত রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা বলে মনে হয় না। কারণ, আন্দোলনের সূচনাটা হয়েছিল খুব নির্দিষ্ট একটি দাবি—সরকারি চাকরি, বিশেষ করে বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে। সেই প্রেক্ষাপটে কোটা সংস্কার আন্দোলন ধীরে ধীরে বড় হয় এবং শেষ পর্যন্ত গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ঘটনাপ্রবাহ বিশেষ করে আবু সাঈদ, ফারহান, শিশু রিয়া গোপের হত্যাকাণ্ড এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করে, যেখানে নিরাপত্তাহীনতা আর জীবননাশের হুমকি একবারে প্রত্যেকের ঘরের দুয়ারে এসে পৌঁছে যায়। এতে মানুষের মধ্যে উপলব্ধি তৈরি হয় যে সমস্যাটি কেবল কোটা নয়; রাষ্ট্রের স্বৈরাচারী কাঠামোও।

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এই গণ-অভ্যুত্থান কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট দ্বারা বা তাদের নেতৃত্বে প্রস্তুত করা সুদূরপ্রসারী কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনার ফল ছিল না; বরং তৎকালীন সরকারের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, রাজনৈতিক ক্ষমতার দম্ভ, দমনমূলক মনোভাব এবং বিশেষ করে আন্দোলন দমনে লাগামহীন সহিংসতার পথ বেছে নেওয়াই পরিস্থিতিকে ক্রমশ বিস্ফোরণমুখী করে তোলে। যখন রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং হত্যাকাণ্ড শুরু হয়, তখন একজন রিকশাচালক থেকে শুরু করে করপোরেট কর্মকর্তাও অনুভব করতে থাকেন যে তাঁদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। রাজনৈতিক হোক বা না হোক, প্রায় সবাই একধরনের অস্তিত্ব আর জীবননাশের আশঙ্কায় পড়ে যায়। সেই পরিস্থিতিই মানুষের মধ্যে একধরনের ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করে।

আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যাই, যেখানে অনেকেই মনে করতে শুরু করেন—এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত বা ভালো কিছু সম্ভব নয়। ফলে সরকার পতনের দাবি একধরনের অনিবার্যতায় পরিণত হয়। এই মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক মুহূর্তটিই গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান চালিকা শক্তি ছিল।

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য; অনেকেই মনে করতে পারেন যে শিক্ষক নেটওয়ার্ক হঠাৎ করেই এই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার ইতিহাস অনেক পুরোনো। ২০১৪-১৫ সাল থেকেই শিক্ষক নেটওয়ার্ক শিক্ষার্থীদের অধিকার, তাদের নিরাপত্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে আসছে। এই বিষয়গুলো নিছক একাডেমিক নয়; এগুলো রাজনৈতিকও বটে। ফলে এস্টাবলিশমেন্টের সঙ্গে আমাদের সংঘাত হওয়াটা স্বাভাবিক। ঘটনার পরম্পরায় জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান আমাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু সেটি আমাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতার মধ্যেই ঘটেছে। আমরা এই আন্দোলনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলাম, একই সঙ্গে সামনের সারিতেও ছিলাম।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews