শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পার্বত্য এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানান, মধ্যাঞ্চলে ভূমিধসে দুটি বাড়ি চাপা পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বন্যার পানিতে ডুবে আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রবল বর্ষণ ও বন্যায় অন্তত ১২৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনী। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম হিরু টিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সৈন্যরা পানিতে ডুবে যাওয়া সড়ক অতিক্রম করে আটকে পড়া পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চা উৎপাদনের জন্য পরিচিত নুয়ারা এলিয়া ও বাদুল্লা জেলা। খাড়া পাহাড়ি ভূখণ্ড হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিধসপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জেলার স্কুলগুলো কবে পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শ্রীলঙ্কা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘন ঘন চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছে। গত বছরের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহের প্রভাবে একই পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। সেই দুর্যোগের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশটির জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা