স্ত্রীকে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রেখে ১৪ মাস আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন মুরাদ হোসেন (৩৬)। এর ৪ মাস পর জন্ম নেয় তার ছেলে রাফি।
মুরাদের ইচ্ছা ছিল এবার কুরবানির ঈদে দেশে ফিরবেন। ছেলেকে পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে নেবেন। তাকে বিমানবন্দরে এগিয়ে আনতে যাওয়ার দিন ছেলেকে কোন রঙের পাঞ্জাবি পরাবে সেটা বলে দেয় স্ত্রী আন্জুয়ারা। সঙ্গে থাকবে তাদের দুই কন্যা সন্তান।
কিন্তু ছেলেকে নিজ চোখে দেখা ও কোলে তুলে নেওয়ার স্বপ্ন তার অপূর্ণই রয়ে গেল। কথাগুলো বলতে বলতে আবেগি হয়ে পড়েন মুরাদের মামাশ্বশুর মো. লুৎফর রহমান।
মৃত মুরাদ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দরাপের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক শেখের ছেলে।
মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার দীর্ঘ ১৭ দিন পর শনিবার (৯ মে) ভোর সাড়ে ৪টায় মুরাদের লাশ বাংলাদেশ বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। সঙ্গে নিয়ে আসে তার স্বজনদের জন্য এক সমুদ্র হাহাকার।
লুৎফর রহমান আরও বলেন, দুর্ঘটনার সময় মুরাদের কাছে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। টাকাগুলো দিয়ে সে আকামা করতে যাচ্ছিল। কিন্তু সে টাকার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিদেশে যাওয়ার সময় আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা ধার করেন। সে টাকাগুলোও পরিশোধ করতে পারেননি। তার মৃত্যুতে আমার ভাগ্নি অবুঝ সন্তানদের নিয়ে চরম সংকটের মধ্যে পড়ে গেল।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন বিএনপি নেতার প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ লাখ টাকা ছিনতাই, গ্রেফতার ৯
বেলা ১১টায় গ্রামের বাড়ির দুদুখানপাড়া জামে মসজিদ মাঠে তার জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে মুরাদের লাশ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকাজুড়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। মুরাদের স্ত্রী, সন্তান, পরিবারের লোকজন ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ।
মুরাদের বড় ভাই মোস্তফা শেখ জানান, পরিবারে মুরাদের স্ত্রী আন্জুয়ারা, ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া বড় মেয়ে মাইশা, ১ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট মেয়ে মেহেরীমা ও ১০ মাস বয়সি পুত্র সন্তান রাফি রয়েছে। সবাই আমার মরহুম ভাই ও তার স্ত্রী-সন্তানদের জন্য দোয়া করবেন।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসের ২৩ তারিখ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মুরাদ শেখ (৩৬) নিহত হন।